বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটি: জানা যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৮ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আনা ৯ বিমান কর্মকর্তাকে টাস্কফোর্স ইন্টারগেশন সেলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে তাদের ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে ৯ কর্মকর্তার মুখ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় ওই ৯ কর্মকর্তার কার কী ভূমিকা ছিল, তা পুলিশের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

এ মামলার আসামি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট পরিদপ্তরের জুনিয়র টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান, একই পরিদপ্তরের প্রকৌশলী কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামীউল হক, লুৎফর রহমান, মিলনচন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসেন, বিমানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিদর্শন ও মান নিশ্চিতকরণ) এসএ সিদ্দিক এবং ভারপ্রাপ্ত মুখ্য প্রকৌশলী বিল্লাল হোসেন।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার আগে ওই ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত উড়োজাহাজের অয়েল প্রেসার সেন্সরের প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ করা হয়। ওই মেরামত কাজ শেষে বিমান উড্ডয়নের জন্য ছাড়পত্র মেলে। মেরামত কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের অয়েল প্রেসার সেন্সরের পার্শ্ববর্তী বি-নাট কেন ঢিলা ছিল তার কারণ ইতোমধ্যে পুলিশের তদন্তকারীদের কাছে প্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে নাকি অবহেলাজনিত কারণে, সে বিষয়েও মিলেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কিন্তু অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে নারাজ পুলিশের তদন্তকারীরা।

জানা গেছে, মামলার ৯ আসামির মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান সরাসরি মেরামত কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রোকনুজ্জামান মেইন্টেনেন্স রিলিজ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। আসামি সামীউল হক কাজে নিযুক্ত করেছিলেন সিদ্দিকুর রহমানকে। আসামি লুৎফর রহমান ও মিলনচন্দ্র বিশ্বাস কাজের সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। আর জাকির হোসেন ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্য নিয়োজিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, তদন্তে দেখা গেছে ৯ আসামির মধ্যে অন্তত ৫ জন নিজ-নিজ দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেননি। মেরামত কাজ তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্তরা শুধু কাগজপত্রেই তদারকি করেছেন। এসব ব্যাপারে রিমান্ডে থাকা ৯ আসামি তাদের লিখিত বক্তব্য পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেছেন। এখন ওই বক্তব্য বিশ্লেষণ চলছে। একজনের লিখিত বক্তব্যে দেওয়া তথ্য আরেকজনের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সবাই জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট উড্ডয়নের জন্য ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল, তা উঠে আসে। গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা বুদাপেস্টে পৌঁছান।

আরও পড়ুন