বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যানে চড়ানো ইমামের চাকরি হচ্ছে বিমানবাহিনীতে, ভ্যান যাচ্ছে জাদুঘরে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যানে চড়িয়ে তোলপাড় ফেলে দেয়া ইমাম শেখকে চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমানবাহিনী। শুক্রবার তার ভ্যানে প্রধানমন্ত্রীর চড়ার ছবি প্রকাশের পর ইমাম শেখের সরকারি চাকরি পাওয়ার বাসনার কথা জানা যায়। তবে সরকারপ্রধানকে পাশে পেয়েও তিনি এই বাসনার কথা বলতে পারেননি লজ্জায়।

রবিবার সকালে যশোর থেকে বিমানবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির স্কোয়াড্রন লিডার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে তিন জন কর্মকর্তা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান। আগেই তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনিই  সর্দারপাড়া গ্রাম থেকে ইমাম শেখকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।

যশোরে বিমান বাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির স্কোয়াড্রন লিডার হারুন-উর-রশিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রোববার টুঙ্গীপাড়ায় সরদারপাড়া গ্রামে ইমাম শেখের বাড়িতে যান এবং চাকরির বিষয়টি জানান। ইমাম শেখের অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় ইমামের মা শাহানূর বেগমের হাতে। পরে দুপুরে সেই ভ্যানসহ ইমামকে নিয়ে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা যশোরের উদ্দেশ‌্যে রওনা হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা ও টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম গোলাম কাদের।

পরে গোলাম কাদের বলেন, “বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইমাম শেখকে নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষাগত যোগ‌্যতা অনুযায়ী তাকে কোন পদে নিয়োগ দেওয়া যায় সে সিদ্ধান্ত পরে হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান বলেন, “সরকারপ্রধানকে সে ভ‌্যানে চড়িয়ে ঘুরিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এজন‌্য বিমানবাহিনীতে তার চাকরির ব‌্যবস্থা করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন‌্যবাদ জানাই।”

গোলাম কাদের জানান, ইমাম শেখের ভ‌্যানটি জাদুঘরে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন। আর ইমাম শেখ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নিজেকে তার ‘সুখী ও ভাগ্যবান’ মানুষ মনে হচ্ছে।

শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত রাতে বিমানবাহিনীর লোকেরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা সকালে আমার বাড়িতে এসে তাকে চাকরি দেয়ার কথা জানায়। পরে আমি তাকে ডেকে এনেছি। আর যশোর বিমান ঘাঁটি থেকে আসা কর্মকর্তারা তাকে বিষয়টি জানায়।’

ইমাম শেখ একটি সাদা রঙের শার্ট ও কালো প্যান্ট পড়ে রওয়ানা দেন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এ সময় তার মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।

যাওয়ার সময় ইমাম শেখের ভ্যানটিও একটি ছোট ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমাম শেখ জানান, তার ভ্যানটি জাদুঘরে রাখা হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, এই ভ্যানের জন্যও ইমাম শেখকে টাকা দেয়া হবে।

বেলা একটার দিকে ইমাম শেখের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় তখন তিনি গাড়িতে করে যশোরে যাচ্ছেন। আপনাকে কী বলা হয়েছে-জানতে চাইলে ইমাম শেখ বলেন, ‘আমাকে স্যাররা বলছেন, আমার চাকরি হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি, সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হইতাছে।’

দুদিন আগেও ইমাম শেখের কথা দেশবাসী জানতো না। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর গোপালগঞ্জ সফর রীতিমতো খ্যাতি এনে দেয় ইমাম শেখের। সফরের দ্বিতীয় দিন তিনি ভ্যানে চড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আর ডাক পান ইমাম।

ছোট বোন শেখ রেহানার ছেলে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি, তার স্ত্রী পেপি কিভিনিয়াম সিদ্দিক এবং তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে শেখ হাসিনা চড়েন ইমাম শেখের ভ্যানে। পথে যেতে যেতে ইমামের সঙ্গে বেশ খানিকক্ষণ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আব্দুল লতিফ শেখ এবং শাহানাজ বেগমের পুত্র ইমামের স্বপ্ন ছিল সরকারি চাকরি করে মা বাবাকে সুখে রাখবেন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা আগায়নি তার।

সতের বছরের ইমাম হোসেন দারিদ্রের কারণে পঞ্চম শ্রেণি থেকে ভ্যান চালানো শুরু করে। ‘সংসারের টাহা পয়সার অভাবে আর ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারি নাই’ বলেন ইমাম হোসেন।

ইমাম বলেন, ‘আমার আব্বার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এখন আমাকে পরিবারটারে দেখতি হয়। আমরা অসহায় পরিবার। আমারে যদি কেউ যেকোন একটা সরকারি চাকরি দেতো সেইডা আমাগে পরিবারের জন্য খুব উপকার হইতো।’

প্রধানমন্ত্রীকে এই কথাটি কেন বলেননি?-জানতে চাইলে ইমাম বলেন, ‘লজ্জায় বলতে পারিনি।’

তবে লাজুক ইমামের কপাল খুলল বুঝি গণমাধ্যমের কল্যাণে।

আরও পড়ুন