মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ভারতের ‘র’, দাবি বিএনপি’র


NEWSWORLDBD.COM - March 15, 2017

ziaur-rahman-withআওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর হাত ছিল বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলার পর এবার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাটির হাত ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আলোচনার মধ্যে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী এই দাবি তুলে বলেন, “র কাদের স্বার্থে কাজ করে, দেশের জনগণ ভালোভাবেই জানে।”

জিয়া হত্যাকাণ্ডে ‘র’ এর সম্পৃক্ততার অভিযোগের পক্ষে ভারতের সানডে সাময়িকীর একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন রিজভী। এই সাময়িকীর তখন সম্পাদক ছিলেন এম জে আকবর। একসময় কংগ্রেসঘেঁষা এই সাংবাদিক রাজনৈতিক আদর্শ বদলে এখন বিজেপি সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে পালাবদলে ক্ষমতা নেওয়া তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়া ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত ছিল পাশে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর উল্টো দিকে যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। জিয়া মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমরনায়ক হলেও তাকে ‘পাকিস্তানপন্থি’ বলে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা একটি ফাইল খুলেছিল, যা ভারতের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘সানডে’ তে ছাপা হয়েছিল প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয় যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই আসার পর ওই ফাইলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসলে ওই ফাইলটি আবার চালু করা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমান নিহত হন কিছু উচ্ছৃঙ্খল সৈনিকের হাতে।”

একাত্তরের পর পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান চলতে থাকে। তারই এক পর্যায়ে ১৯৭৬ সালে ক্ষমতারোহন করেন জিয়া। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরও অনেকগুলো ব্যর্থ অভ্যুত্থান হয়। এসব অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীদের জিয়া কঠোরভাবে দমন করেন। তখন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম রহস্যাবৃত একটি বিষয়। জিয়ার স্ত্রী বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৪ সালে এক সমাবেশে তার স্বামীকে হত্যার জন্য তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদকে দায়ী করেন। জিয়ার মতো করেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এরশাদ নয় বছর দেশ চালানোর পর শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণআন্দোলনে উৎখাৎ হয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদ তখন বলেছিলেন, “আমি জানি, জিয়ার হত্যার সময় তার রুমের পাশে কে ছিলেন। আমি জানি, জিয়ার প্রকৃত খুনি কে।”

বর্তমানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূতের মর্যাদায় রয়েছেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.