বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

‘লীগ’-এর সেই ‘দোকানে’ হাছান মাহমুদ


NEWSWORLDBD.COM - March 25, 2017

hassanmahmud_2দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নিষেধে কান না দিয়ে প্রজন্ম লীগ নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহারকারী প্রজন্ম লীগসহ ‘ভূইফোঁড় সংগঠন’গুলোর কোনো অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো বন্ধ করে দিতে সম্প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন কাদের।

গত বৃহস্পতিবারও সিলেটে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, “প্রজন্ম লীগ, প্রচার লীগ, তরুণ লীগ, কর্মজীবী লীগ, ডিজিটাল লীগ, হাইব্রিড লীগ আছে। কথা হাছা, সংগঠনে কাউয়া ঢুকছে। জায়গায় জায়গায় কাউয়া আছে। পেশাহীন পেশাজীবী দরকার নেই। ঘরের ভেতর ঘর বানানো চলবে না। মশারির ভেতর মশারি টানানো চলবে না।”

তার একদিন বাদেই শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের অনুষ্ঠানে দেখা যায় হাছান মাহমুদকে।

এই সংগঠনটির নানা কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককেও দেখা যায়। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে স্বাধীনতা পরিষদ নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগ দিতে দেখা যায়।

প্রজন্ম লীগের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “ভূঁইফোর সংগঠন আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে কথা ঠিক। তবে প্রজন্ম লীগ অনেকগুলো, আমি যে প্রজন্ম লীগের অনুষ্ঠানে গিয়েছি, সেটা ভূঁইফোড় নয়। আমাদের দলের দু-একটি সহযোগী সংগঠনের ৬০টি জেলায় কমিটি নাই। এই প্রজন্ম লীগের আছে।”

প্রজন্ম লীগের এই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ‘আলাপ করেছিলেন’ বলে হাছান মাহমুদ জানান।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর বাইরে নামের সঙ্গে ‘লীগ’ কিংবা ‘আওয়ামী’ নাম নিয়ে অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছে, যেগুলো নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন,“মন্ত্রী হওয়ার জন্য এমনকি নিজের মন্ত্রিত্ব ধরে রাখতে অনেকে নামে-বেনামে গড়ে ওঠা এসব দোকানে গিয়ে নেত্রীকে খুশি করার চেষ্টা করছে। আসলে তারাই এই সকল সংগঠন গড়ে ওঠার জন্য দায়ী।”

এসব সংগঠনের আড়ালে চাঁদাবাজি ও নানা সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলে ওবায়দুল কাদেরেরও অভিযোগ।

এগুলোকে ‘দোকান’ আখ্যায়িত করে তিনি গত কিছু দিন ধরে এই ধরনের সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এই সংগঠনগুলোকে বন্ধ করতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্যোগ নিতে বলছেন তিনি।

এই ধরনের কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ গেলেও তাদের খবর না ছাপাতেও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ““প্লিজ আপনারা কাভারেজ দিবেন না। টিভিতে দেখানো আর পত্রিকায় নাম আনার জন্যই এই সকল দোকান।”

এ ধরনের সংগঠনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমাদের কিছু কিছু নেতা এই ভূঁইফোড় সংগঠনের অনুষ্ঠানগুলোতে যায়। এই কারণে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হয়। নামে-বেনামে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানে কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ নেতা, মন্ত্রীদের যাওয়া উচিৎ না।”

এই সংগঠনগুলো গড়ে ওঠার পেছনে সংবাদ মাধ্যমকেও দায়ী করে সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কিছু কিছু মিডিয়া ও এই সংগঠনগুলোর কাভারেজের ব্যাপারে আরও বেশি উৎসাহী। আমাদের অনেক ফরমাল প্রোগ্রামের কভারেজ না দিয়ে তারা ভূঁইফোড় সংগঠনের কাভারেজ দেয়।”

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাতটি সংগঠন সহযোগী এবং অন্য তিনটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা পায়। সহযোগী সংগঠনগুলো হলো যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও তাঁতি লীগ। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন তিনটি হলো ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-(স্বাচিপ)।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.