বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » সুপ্রিম কোর্টের গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরাতে চান প্রধানমন্ত্রীও
বিশেষ নিউজ

সুপ্রিম কোর্টের গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরাতে চান প্রধানমন্ত্রীও


NEWSWORLDBD.COM - April 11, 2017

pm_10_11-04-2017_kallol-pix-copyসুপ্রিম কোর্টে স্থাপিত ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারী ওলামাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটি সরাতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে গণভবনে কওমি মাদ্রাসার আলেমদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে তাদের এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এই বৈঠকে কওমি মাদ্রাসাগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধি ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীও ছিলেন।

রোমান যুগের ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিস’র আদলে একটি ভাস্কর্য কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়।

এরপর থেকে হেফাজতসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন তার বিরোধিতায় নামে। হেফাজত এই ভাস্কর্য সরানোর দাবি জানিয়ে সরকারকে ৫ মে মতিঝিলে ফের সমাবেশের হুমকি দিয়ে আসছে। ওলামা লীগও তা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল।

ভাস্কর্যটির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। বলা হচ্ছে এটা নাকি গ্রিক মূর্তি, আমাদের এখানে গ্রিক মূর্তি আসবে কেন? আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিৎ না। গ্রিকদের পোশাক ছিল এক রকম। এখানে আবার দেখি শাড়ি পরিয়ে দিয়েছে। এটাও হাস্যকর হয়েছে।”

ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে কথা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনার পর গণভবনে উপস্থিত আলেমরা হর্ষধ্বনি হয়ে ওঠেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “প্রধান বিচারপতির সঙ্গে খুব শিগগিরই বসব। আপনারা ধৈর্য ধরেন, এটা নিয়ে হৈ চৈ করা নয়। আমার উপর আপনারা এটুকু ভরসা রাখবেন। এটায় যা যা করা দরকার আমরা তা তা করব।”

প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে একমত হলেও তার দলের কয়েকজন নেতা হেফাজতের দাবির সমালোচনা করে আসছিলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, “হেফাজত আজকে যেভাবে বলছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নয়, মনে হচ্ছে এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র।”

কওমির দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর মর্যাদার ঘোষণা:
এদিকে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সমমর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে দাওরায়ে হাদিস ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে মাস্টার্সের মর্যাদা পাবে।

মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আলেমদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক আলেম উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এই স্বীকৃতি দেওয়া হলো।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আলেমদের নিয়ে একটি কমিটিও করা হয়েছে। তাঁরাই এই স্বীকৃতির আইনি ভিত্তি দাঁড় করাবেন।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে তিন শতাধিক আলেম এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কওমি ঘরানার দেশের শীর্ষ প্রায় সব আলেম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কওমির দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর মর্যাদা দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তব রূপ পেল।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.