নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী সংগঠনগুলোর দাবির মুখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদকারীদের কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে হটিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশি হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শুরুর পর সুপ্রিম কোর্ট ফটকের সামনে বিক্ষোভ থেকে শুক্রবার সকালে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো।
শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে বাম সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোতে চাইলে শিশু একাডেমির সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।
মিছিলকারীরা ব্যারিকেড ভাঙতে গেলে পুলিশ প্রথমে কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে; পরে জলকামান থেকে পানি এবং রবার বুলেটও ছোড়া হয়।
সেখান থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ পাঁচজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পুলিশি হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের একাংশের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রী চক্রবর্তী রিন্টু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশু একাডেমি পার হওয়ার পরপরই জলকামান, টিয়ারশেল ও রবার বুলেট ছুড়তে শুরু করে পুলিশ।”
ছাত্রফ্রন্টের সঞ্জয় কান্তি দাস, শামীমা আরা মিনা, মুক্তা ভট্টাচার্য আহত হন বলে জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তুহিন কান্তি দাস বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীর পাশাপাশি লালবাগ থানা শাখার সভাপতি জয়, ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি মোর্শেদ হালিম, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আরিফ নুরকে পুলিশ আটক করেছে।
এ ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তুহিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে।
মিছিলটি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ জল কামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশি বাধার মুখে হাইকোর্টের মাজার গেট পার হতে না পেরে সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদকারীরা।
সেখান থেকে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিয়ে তেড়ে দেয় পুলিশ। পরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে সেখানেই বিক্ষোভ করছেন।
এদিকে, প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে পুলিশি বাধার প্রতিবাদ ও ভাস্কর্য স্থাপনের দাবিতে আগামীকাল শনিবার সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হয়। রাত ১২টার পর ভাস্কর মৃণাল হকের তত্ত্বাবধানে মোট ২০ জন শ্রমিক ভাস্কর্যটির ভিত ভাঙার কাজ শুরু করেন।
প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় ভোরে সেটি সরিয়ে নেয়া হয়। এ সময়ও সর্বোচ্চ আদালতের ফটকের বাইরে বিক্ষোভ হয়।
স্থাপিত ভাস্কর্য চাপের মুখে পড়ে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এর নির্মাতা ভাস্কর মৃণাল হক।
রোমান যুগের ন্যায় বিচারের প্রতীক লেডি জাস্টিসের আদলে করা এই ভাস্কর্যটি সরানোর পক্ষে এর নান্দনিক ‘ত্রুটির’ পাশাপাশি জাতীয় ঈদগাহের কাছে অবস্থানের কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে তার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাকারীরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মৌলবাদীদের সঙ্গে আপস করছে সরকার এবং এতে ধর্মীয় মৌলবাদ আরও উৎসাহিত হবে।
হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন ভাস্কর্যটির বিরোধিতায় নেমেছিল। এরপর গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন এক দল ওলামার সঙ্গে গণভবনে বৈঠকে শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটি সরাতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে পুলিশের বাধা পেয়ে জোটের মিছিল ক্যাম্পাসে ফিরে এসে দফায় দফায় মিছিল করে। মিছিল থেকে সরকারের ‘মৌলবাদ তোষণনীতির’ বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।
https://youtu.be/5KYsIxJr334


