শনিবার ১৯ অগাস্ট ২০১৭
বিশেষ নিউজ

ভাস্কর্য সরানোয় প্রতিবাদের ঝড় অব্যাহত


NEWSWORLDBD.COM - May 27, 2017

protest_kসুপ্রিম কোর্টে ঢোকার পথে লিলি ফোয়ারায় হাতে দাঁড়িপাল্লা ধরে রাখা ভাস্কর্যটি এত দিন সবার নজর কাড়ত।  শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সেটি অপসারণ করা হয়েছে। আগের রাতে ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের গেটগুলো বন্ধ করে। সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের পশ্চিম পাশে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে ওই ভাস্কর্য। কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দলের দাবির মুখে ভাস্কর্যটি সরানোর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভাস্কর্য সরানোর কাজ চলে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত। ওই সময় সুপ্রিম কোর্টের ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া জলকামান থেকে ছোড়া হয় গরম পানি। পুলিশি হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ চারজনকে আটকও করে পুলিশ। ভাস্কর্যটি সরানোর প্রতিবাদে দেশের সব জেলায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ পালন করা হবে আজ শনিবার।

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকার বাইরেও চট্টগ্রাম, বরিশাল, গাইবান্ধা, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হয়েছে।

ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে গ্রিক দেবীর আদলে নির্মিত ওই ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়ায় পুলিশের চোখরাঙানি, জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের ভয় উপেক্ষা করে গতকাল রাজধানীতে ছিল প্রতিবাদী ছাত্র-জনতার মিছিল। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে তীব্র প্রতিক্রিয়া বয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শুরু করার সময়ই তা দেশজুড়ে জানাজানি হয়ে যায়। এর পর থেকেই শুরু হয় প্রতিবাদ। শুক্রবার প্রতিবাদকারীরা ভাস্কর্য আগের স্থানে পুনঃস্থাপন করার দাবি জানিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ওই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল গত ১৮ ডিসেম্বর। হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কিছু সংগঠন ভাস্কর্যকে ‘গ্রিক দেবীর মূর্তি’ অভিহিত করে তা সরিয়ে ফেলার দাবি জানায়। ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে সুর মেলায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলনও। আমির শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলামের নেতারা গত ১১ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা ওই সময় ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তাতে সায় দেন। হেফাজতে ইসলাম রোজার আগেই তা সরানোর চাপ দিচ্ছিল। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের সব গেট বন্ধ রেখে নির্মাতা ভাস্কর মৃণাল হকের উপস্থিতিতে ভাস্কর্যটি সরানো হয়। ভাস্কর মৃণাল হক বলেন, ওপরের চাপে পড়ে এটি সরাতে হয়েছে। তাঁর মতে, ওই ভাস্কর্য গ্রিক দেবীর নয়, বাঙালি নারীর আদলে নির্মাণ করেছিলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ভেতরে ভাস্কর্য সরানোর কাজ চলার সময়ই বাইরে সুপ্রিম কোর্টের গেটের সামনে জড়ো হয়েছিল প্রতিবাদকারীরা। রাত দেড়টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে তারা। একপর্যায়ে তারা হেফাজতবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা সামনের রাস্তার একটি অংশও বন্ধ করে দেয়। গভীর রাতের ওই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষও। তারা হেফাজতবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তারা বলছিল, ‘হেফাজতের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’।

সেখানে উপস্থিত প্রতিবাদকারী উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পী আরিফ নুর বলেন, সরকার হেফাজতের সঙ্গে আপস করতে গিয়েই ভাস্কর্য সরিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের একজন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তুহিন কান্তি দাস শুক্রবার দুপুরে টিএসসির সামনে পুলিশি হামলায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিকেলে তাঁর মুখ দিয়ে কথাও বেরোচ্ছিল না ঠিকমতো। তিনি জানান, ভোর ৫টার মধ্যে ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছিল। এরপর ভোর সাড়ে ৫টায় তারা চলে যান। গতকাল সকাল ১১টায় ‘ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ’ নামে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার এ ভাস্কর্য সরায়নি। এটি বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। আইনজীবী নেতারাও বলছেন, প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেই ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় আইনজীবী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ও বর্তমান সভাপতি এবং সম্পাদকসহ অন্য আইনজীবী নেতারাও বৈঠকে ছিলেন। সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সমাবেশে বলেন, প্রধান বিচারপতি নিজের সিদ্ধান্তেই ভাস্কর্য অপসারণের পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মওদুদ তাঁর দলের নেতা এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনকে উদ্ধৃত করে আরো বলেন, ‘আমাদের সেক্রেটারি খোকন এখন বলল, সব সিনিয়র আইনজীবী, সবার সঙ্গে তিনি (প্রধান বিচারপতি) পরামর্শ করেছিলেন—কী করা যায়? তাঁরা পরামর্শ দিয়েছিলেন, আপনি এই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিলে ভালো হয়। ’ ভাস্কর্যটি নিয়ে সরকারের আচরণেরও সমালোচনা করেন মওদুদ। তিনি বলেন, ‘সেটা নিয়ে কত রকমের কথাবার্তা হয়েছে, কত রকমের বিতর্ক তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সবারই এমন একটা ভাব যেন এই জিনিসটা, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ তাঁরা নেবেন। ’

প্রতিবাদকারীদের ওপর রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান : ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে এবং সেটি পুনঃস্থাপনের দাবিতে ‘ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ’ কর্মসূচি শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে। তবে আগেই পুলিশ বার্তা পেয়ে যায়। বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর কর্মসূচি রুখতে পুলিশ পাল্টা প্রস্তুতি নেয়। দুপুর ১২টার দিকে প্রগতিশীল ছাত্রজোট রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোতে চাইলে শিশু একাডেমির গেটের একটু দূরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। ওই সময় ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে মিছিল পণ্ড করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদকারীদের ওপর জলকামানের গরম পানি, রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফাঁকা গুলিও ছোড়ে পুলিশ। পুলিশি হামলায় ২০ জন আন্দোলনকারী আহত হয়। চারজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবারের হামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিছিলকারীরা ব্যারিকেড ভাঙতে গেলে পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পরে জলকামান থেকে লাল রঙের গরম পানি, চারটি ফাঁকা গুলি এবং অসংখ্য রাবার বুলেটও ছোড়া হয়। সেখান থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ চারজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একাংশের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রী চক্রবর্তী রিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, শিশু একাডেমি পার হওয়ার পরপরই জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয়।

মিছিল ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তুহিন কান্তি দাস জানান, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, লালবাগ থানা শাখার সভাপতি জয়, ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি মোর্শেদ হালিম, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আরিফ নূরকে পুলিশ আটক করেছে। আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তুহিন।

ঘটনার পর ডিএমপির রমনা জোনের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, স্পর্শকাতর এলাকা সুপ্রিম কোর্টে মিছিল নিয়ে প্রবেশ করা যায় না। তা আগেই আন্দোলনকারীদের সতর্ক করা হয়েছিল। তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

পুলিশের বাধায় কর্মসূচি পণ্ড হওয়ার পর প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা দোয়েল চত্বরে আবার একত্র হয়ে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফিরে যায়। সেখানে তারা দফায় দফায় মিছিল ও সমাবেশ করে। তারা সুপ্রিম কোর্টের সামনে ন্যায়বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবি জানায়। একই সঙ্গে আজ সারা দেশে বাম ছাত্রদলগুলোর বিক্ষোভ কর্মসূূচি ঘোষণা করা হয়।

গণজাগরণ মঞ্চ ও উদীচীর মশাল মিছিল : ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল বের করে। মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থেকে মশাল মিছিল শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ঘুরে আবার শাহবাগে গিয়ে প্রজন্ম চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সেখানে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ভাস্কর্য নিয়ে সরকার নোংরা রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে।

ভাস্কর্য সরানোর এবং পুলিশি হামলার প্রতিবাদে প্রায় একই সময়ে মশাল মিছিল করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। উদীচীর নেতারা আটক প্রতিবাদকারীদের মুক্তিও দাবি করেন।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ : ভাস্কর্য সরানো ও পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেছে সিপিবি-বাসদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শনিবার বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।

ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন দাবির মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিতে আজ দেশের প্রতিটি জেলায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন : পাঠ্যক্রম সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সিলেবাসে চারু ও কারুকলা, নৃত্য, নাট্য, সংগীত তথা সব সুকুমার বিষয় বন্ধ করার চক্রান্তের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদও জানানো হয় সমাবেশে। পাশাপাশি চারুশিল্পীরা প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কনও করেন।

শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে ওই সমাবেশে অংশ নেন কয়েক শ চারুশিল্পী। স্লোগানে স্লোগানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী মনিরুজ্জামান বলেন, সারা দেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান হয়েছে। সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, ‘ভাস্কর্যশিল্পের ওপর আঘাত এসেছে, আমরা মনে করি, এটা বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাত। ’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন হাশেম খান, শিশির ভট্টাচার্য, আবুল বারক আলভী, আবদুল মান্নান, তরুণ ঘোষ, শেখ আফজাল প্রমুখ।

‘দেশ কি হেফাজতের প্রেসক্রিপশনে চলবে’ : আমাদের চট্টগ্রাম অফিস জানায়, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরানোর এবং ঢাকার বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন এসব কর্মসূচি পালন করেছে।

আন্দরকিল্লা মোড় থেকে ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন মিছিল বের করে। মিছিলটি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য, ভোটের জন্য সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ অপশক্তি হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আপস করছে সরকার। একের পর এক তাদের দাবি মেনে নিয়ে দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁরা প্রশ্ন করেন, এই দেশ কি হেফাজতের প্রেসক্রিপশনে চলবে?

যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য রিপায়ন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা রাশিদুল সামির, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রামের আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।

একই সময়ে নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি আসমা আক্তারের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ সাইয়েমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক মেজবাহ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট বিশুময় দে, ছাত্র ফ্রন্ট নগর শাখার স্কুলবিষয়ক সমপাদক জয়তু সুশীল, অগ্নিবীণা পাঠাগারের সংগঠক সানি চৌধুরী প্রমুখ।

গাইবান্ধায় বিক্ষোভ : গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সিপিবি কার্যালয় থেকে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ১ নম্বর রেলগেটে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে বক্তব্য দেন আসমানী আক্তার আশা, রানু সরকার, তপন দেবনাথ, পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার মৌলবাদীদের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

রাজবাড়ীতে মানববন্ধন : রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন সংগঠন। ‘সাংস্কৃতিক বলয়’-এর আয়োজনে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পালিত হয় মানববন্ধন। মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বের করা হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বরিশালে প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন ও শিল্পী সমাবেশ : বরিশাল অফিস জানায়, প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন ও শিল্পী সমাবেশ হয়েছে বরিশালে। শুক্রবার সকাল ১০টায় অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে চারুকলা বরিশালের শিক্ষক মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বরিশাল চারুকলার শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন করেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.