বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়ন অপরিহার্য: জাতিসংঘ মহাসচিব

আরমান হোসেন টুটুল, বিশেষ প্রতিনিধি।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়ন ‘অপরিহার্য ও জরুরি’ বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক নেতৃত্বের স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সরিয়ে নিলে সেই শূন্যস্থান রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি সৌদি আরব, তুরস্ক ও ইরানের মতো অন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো পূরণ করবে।

জলবায়ু সম্পর্কে নিজের প্রথম বড় ধরনের কোনো বক্তব্যে গুতেরেস বলেন, ‘অতি উচ্চাশা’সহকারে ২০১৫ সালে সম্পাদিত প্যারিস চুক্তি বিশ্বকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এসব কথা বলেন। খবর রয়টার্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭ শীর্ষ বৈঠকে জলবায়ু চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এতে সমর্থন দেননি। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘কোনো দেশের সরকার ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বা বিশ্ববাসীর আকাক্সক্ষা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারে। তবে অন্য দেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।’ এর আগে ট্রাম্প মানুষের তৈরি এ বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ‘ভাঁওতাবাজি’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জি-৭ সম্মেলনের চূড়ান্ত ইশতেহারে যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত অন্য দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতা হ্রাসের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটবার্তায় লিখেছেন, ‘আমি প্যারিস চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনে পৌঁছে আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। আর সে মোতাবেক বিশ্বের ১৯৫টি দেশের বাতাসে কার্বন দূষণের মাত্রা কমানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় শিল্পোন্নত সাতটি দেশ। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে এখন ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘খুবই সরল বার্তা : স্থিতিশীলতার ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। এখন আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে, আপনি তাতে উঠবেন কিনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ বিশ্ব খুবই বাজে অবস্থায় রয়েছে। এখন বিশ্বের জন্য প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করাটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।’ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির পক্ষে মার্কিনিদের কঠোর অবস্থান নেয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘মার্কিন সরকার প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলেও নগর, অঙ্গরাজ্য, কোম্পানি, বাণিজ্যসহ পুরো মার্কিন সমাজ এ চুক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকা জরুরি।’ নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা ছাড়াই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈদেশিক সাহায্য ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের গুরুত্ব সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গুতেরেস। বৈদেশিক সাহায্য ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার হ্রাস করার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে জাতিসংঘের শান্তি মিশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য বরাদ্দ বাজেট থেকে ১০০ কোটি ডলার হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে গুতেরেস বলেন, ‘উন্নয়ন সহায়তা, সাধারণভাবে বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে সহায়তা এবং জাতিসংঘের মতো সংগঠনের জন্য তহবিল জোগানোতে আমেরিকার জনগণের স্বার্থ নিহিত আছে।

আরও পড়ুন