শুক্রবার ১৮ অগাস্ট ২০১৭
বিশেষ নিউজ

জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পিঠটান: ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী


NEWSWORLDBD.COM - June 1, 2017

আরমান হোসেন টুটুল, বিশেষ প্রতিনিধি
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সব সময় আমেরিকার স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবেন এবং আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলবেন। আর এ মর্মে তার স্লোগান হচ্ছে, ‘আমেরিকাই প্রথম’ ও আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলুন। তবে আমেরিকাকে মহান করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এর উল্টোটাই করছেন তিনি। গত সপ্তাহেই তিনি ইউরোপে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ন্যাটো নেতাদের ব্যাপক নিন্দা করেছেন এবং ওখান থেকে ফিরে আসার পর ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বেই ২০১৫ সালে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। গ্রিনহাউস গ্যাস থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার এ প্রচেষ্টায় এক সঙ্গে কাজ করার জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করে আরও প্রায় ২০০টি রাষ্ট্র।

সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এ বের হয়ে যাওয়া এবং ন্যাটো ও টিফা তথা আন্তঃআটলান্টিক বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থান হয়তো তার রাজনৈতিক সমর্থকদের প্রশংসা কুড়াবে। তবে আমেরিকার ক্ষমতা ও বিশ্ব পরিমণ্ডলে তার প্রভাবের গ্যারান্টি দেবে না।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে ট্রাম্পের বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপ। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার বিশ্ব মঞ্চ থেকে নিজেদেরকে এভাবে গুটিয়ে নেয়ার সুদূরপ্রসারী ফলাফল রয়েছে। এটা শুধু বিশ্বে আমেরিকার ইমেজই ছোট করবে না, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি অপেক্ষা করছে। গত সপ্তাহে ইউরোপ সফরকালে ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে অনেক উপদেশ দিয়েছে, জার্মানিকে ধমক দিয়েছে, এক ইউরোপীয় নেতাকে ধাক্কা দিয়েছে- তবে ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোর প্রতি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলো ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছেন, সেখানে ট্রাম্প সেই চুক্তি নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন। ওই সফরকে ট্রাম্প সফল বলে দাবি করেন। তিনি এটাকে বিজয় ঘোষণা দিয়ে এক টুইটার বার্তায় বলেন, এইমাত্র ইউরোপ সফর থেকে ফিরলাম। সফরটি আমেরিকার জন্য বড় ব্যাপার ছিল। কঠোর পরিশ্রম হয়েছে তবে বিশাল ফল।

এদিকে ট্রাম্পের সফরের পর পরই ২৮ মে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, অন্যদের ওপর নির্ভর করার দিন শেষ। এর মধ্যদিয়ে তিনি মূলত ট্রাম্পের আমেরিকার ওপর নির্ভরতা বুঝিয়েছেন।

ওবামা প্রশাসনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক সহকারী সচিব ডেরেক চোলেট বলেন, বিপদ হচ্ছে, ইউরোপকে ট্রাম্পের দরকার হলেও ইউরোপ ট্রাম্পকে অনুসরণ করতে চায় না। তিনি আরও বলেন, ইরান বা আইএসের ব্যাপারে নতুন কোনো পদক্ষেপের ব্যাপারে ইউরোপীয়দের সহযোগিতার খুব কমই সুযোগ দিচ্ছেন ট্রাম্প।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: newsworldbd1@gmail.com
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.