শুক্রবার ১৮ অগাস্ট ২০১৭
বিশেষ নিউজ

শেখ হাসিনার সর্বনাশা ভুল ধর্মকে ব্যবহার: দ্য ইকোনোমিস্ট


NEWSWORLDBD.COM - June 3, 2017

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দুঃশাসন আড়াল করতে ধর্মকে ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করেছে লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাময়িকী দ্য ইকোনোমিস্ট। পত্রিকাটি মনে করে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি বৈরিতা বজায় রাখতে মদদ দিচ্ছেন। এমনকি তিনি তাঁর বিরোধী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দোষারোপে অটল রয়েছেন। তবে ধর্মকে ব্যবহারে তাঁর চেষ্টা কাজ দিচ্ছে না। কারণ, ধার্মিকরা তাঁদের দাবির পরিমাণ বাড়াতে আরো সাহসী হয়ে উঠছেন।

শুক্রবার ইকোনোমিস্টের মুদ্রণ সংস্করণে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ মন্তব্য করা হয়। ‘শেখ হাসিনার সর্বনাশা ভুল: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দুঃশাসন আড়াল করতে ধর্মকে কাজে লাগাচ্ছেন’ শিরোনামে নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

নিবন্ধনে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনা ওয়াজেদ নানাভাবে গণতন্ত্রকে ক্ষতবিক্ষত করছেন। তিনি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বৈরিতা বজায় রাখতে মদদ দিয়েছেন। তিনি তাঁর বিরোধী যেকোনো বিখ্যাত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিপর্যস্ত করছেন। ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ মুহম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিও করছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ গণহত্যার কথা বলে তিনি বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী দলটিতে বিভাজন সৃষ্টি করেছেন, বিশেষ করে দলটির প্রধান নেতাদের ফাঁসিতে ঝোলানোর মধ্য দিয়ে। এই অবস্থায় তাঁর সর্বশেষ ব্যর্থতা হলো ইসলামী আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি মদদ দেওয়া এবং একই সঙ্গে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি রক্ষায় অস্বীকার করা। মনে হতে পারে এই অবস্থান সামান্য কিছু। কিন্তু এর ফল দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে। ’

নিবন্ধটিতে আরো বলা হয়, ‘মোটের ওপর শেখ হাসিনা যত অমিতচারী, বাংলাদেশ ততই মধ্যপন্থী। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান হওয়ার পরও এর সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এ দেশের মানুষের ওপর সুফিজমের প্রভাব রয়েছে। এই প্রকৃতিবাদীদের আরবরা সমর্থন করে না। দেশটির ৯ শতাংশ মানুষ হিন্দু। তারা বিখ্যাত সব পদে চাকরিও করছেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতি তাদের অন্যতম। এর পরও কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের সমাজ একটি ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করছে। ইসলামী দলগুলো ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। অমুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা বা সমকামীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা লোকজনের ওপরও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামপন্থীদের সৃষ্টি করা এই আতঙ্কের পরিবেশকে দূর না করে উল্টো তাঁর আমলে উদারপন্থীরা খুন হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে এর বৈধতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সরকার ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। একই উদ্দেশ্যে সরকার সৌদি আরবের ১০০ কোটি ডলারের সহায়তায় প্রতিটি শহরে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। অথচ সরকার নারীদের সম্পত্তির ন্যায্য উত্তরাধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে আইনের সংস্কার থেকে পিছিয়ে এসেছে। বাল্যবিয়ের বয়স কমিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিশ্রীভাবে সরকার ন্যায়বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে রাজি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে দুই চোখ অন্ধ ও শাড়ি পরানো ওই ভাস্কর্যটিকে প্রতিমাপূজা মনে করে যে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়, সরকার তাদের সমর্থন করে তা প্রশমিত করার চেষ্টা করে। ’

‘দুঃখজনক ব্যাপার হলো, শেখ হাসিনার বাবা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করার ব্যাপারে জোর দিয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনা বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীকে ভেঙেচুরে দিলেন। তাঁর ছেলে দাবি করছেন যে সরকার ধর্মপ্রাণ মানুষের মনোভাবকে গুরুত্ব দেয়। ’

ইকোনোমিস্টের নিবন্ধটিতে আরো বলা হয়, ‘এভাবে (ধার্মিকদের) সন্তুষ্টি করার চেষ্টা কাজ করছে না। এটি নিদারুণভাবে বিক্ষোভকারীদের আরো দাবি আদায়ে সাহসী করে তুলছে। ইতিমধ্যে তারা ছেলেমেয়েদের স্কুল আলাদা করা, ধর্ম অবমাননা আইন করার দাবি তুলেছে। অন্যান্য দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসকরা নিজেদের ক্ষমতাকে বৈধতা দিতে ধর্মীয় উন্মাদনার প্রতি মদদ দিয়ে থাকে। এর মধ্যে তারা কেবল একটি দুষ্টচক্র খুঁজে বেড়ায়, যেখানে উদারপন্থীরা ভীত থাকে আর ধর্মীয় গোষ্ঠী থেকে চরম সব দাবি উঠতে থাকে। ’ পরিশেষে নিবন্ধটিতে বলা হয়, ‘এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো গণতন্ত্রের মুক্ত চর্চা। সাধারণ বাংলাদেশিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, ধার্মিকরা কিভাবে তাদের সরকারে থাকবে। ’

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: newsworldbd1@gmail.com
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.