শুক্রবার ২৩ জুন ২০১৭
বিশেষ নিউজ

নৌকায় উঠতে পারছেন না আওয়ামী লীগের ১২৮ এমপি


NEWSWORLDBD.COM - June 9, 2017

বিশেষ প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় এখন পর্যন্ত ১২৮ সংসদ সদস্য (এমপি)’র নাম উঠেছে বলে আওয়ামী লীগ সূত্রের খবর।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিন্দ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হয়েছেন ১৫১ জন সংসদ সদস্য (এমপি)। এরমধ্যে ১২৮ জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের। বিনাপ্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করলেও এবার তাদের কপাল পোড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তালিকা থেকেই বেশির ভাগ এমপিকেই বাদ দেওয়ার চিন্তা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা এমন আভাস দিয়েছেন।

সূত্রমতে, ২০১৪ সালে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এমপি হলেও নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তাদের হয়নি। ফলে তাদের ক্ষেত্রে এবার বিকল্প চিন্তা করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা। দলীয় সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। প্রার্থীই হবেন এই নির্বাচনের মূল বিষয়। তাই নির্বাচনী কৌশল জানেন, নির্বাচন করার অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারাই প্রাধান্য পাবেন দলীয় মনোনয়নে। তবে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা থাকলেও এমপি হয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বারবার যাদের নাম এসেছে, তারাও মনোয়ন পাবেন না। বিশেষ করে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা এমপিদের এবার একেবারেই ছাড় দেবেন না শেখ হাসিনা। বাদের তালিকায় থাকবেন তারাও।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে বলেছেন, সর্বশেষ দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দুই ধরণের নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাপারে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এরমধ্যে এক ধরণের রয়েছেন, যারা এমপি হওয়ার পরে নেতা-কর্মী বেষ্টিত না থেকে নেতা-কর্মী বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। দ্বিতীয়ত, যারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তারা। নির্বাচন করে এমপি না হওয়ার ফলে নির্বাচনের কৌশল তাদের জানা নেই। তবে এদের মধ্য থেকে যারা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, এলাকার উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খোঁজ-খবর রেখেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক চিন্তা রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতির।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, অতীতে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা যাদের নেই, তাদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যারা ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং এর আগের নির্বাচনগুলোতেও মনোনয়ন পেয়েছেন, রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন ও শারীরিকভাবে সুস্থ্যও আছেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে তার।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫১ এমপির মধ্যে ১২৮ জনই ছিল আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘প্রত্যেক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তন ঘটে। এবারও কেউ বাদ যাবেন, কেউ নতুন আসবেন। এটাই নিয়ম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে মনোনয়ন কাকে দেওয়া হবে না হবে, সেটার পুরো এখতিয়ার আওয়ামী লীগ মনোনয়ন বোর্ডের। এ বিষয়ে চূড়ান্ত করে এখন কিছু বলা যাবে না।’

বাদের তালিকায় যারা থাকতে পারেন:
বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাইরেও দেশি-বিদেশি সংস্থার দ্বারা মন্ত্রী-এমপিসহ প্রার্থীদের আমলনামা তুলে আনা হচ্ছে। সংসদের ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি এমনকি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক অবস্থানও ওঠে এসেছে। অনেক জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকের ব্যাপারে ইতিবাচক রিপোর্ট যেমন আসছে, অনেকের বিরুদ্ধে আবার নেতিবাচক তথ্যাবলী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের বাইরে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী যাদের অবস্থান শক্তিশালী তাদের চিত্রও তুলে আনা হচ্ছে।

সরকার ও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী নেতারা যতই বলছেন, ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন নয়; তবুও পর্যবেক্ষক মহল আগামী বছরের শেষে আগাম নির্বাচনের আভাস পাচ্ছেন। এবার ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ দেন। এলাকায় ঈদের সময় ব্যাপক জনসংযোগ ও উন্নয়ন কর্মকান্ড তদরকিরও পরামর্শ দেয়া হয়। শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের মন্ত্রী-এমপিরা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় অন্যতম একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ফরিদপুর-২, সাবেক শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর নরসিংদী-৫, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির চাঁদপুর-২, পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের চট্টগ্রাম-১, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাড. সাহারা খাতুনের ঢাকা-১৮, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হকের সাতক্ষীরা-২ আসন গুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেছে এসব হেভিওয়েট আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের।

এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তালিকায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর অবস্থাও নড়বড়ে বলে প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ম মন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নামে এলাকায় সরকারি জমি দখল করে নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়াসহ নানা অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। এছাড়া নিজের বেপোরোয়া ছেলের কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

টেকনাফ থেকে নির্বাচিত এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, শিক্ষককে প্রহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার ইমেজ স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি দলের কাছেও ভালো নয়। রিপোর্টেও বদির অবৈধ ব্যবসায়িক তৎপরতার বিষয়ে অভিযোগ এসেছে।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রে। সেখানে জলমহাল দখলের সঙ্গে তার লোকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা এবং অহেতুক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি, জমি দখলের মতো অপকর্মের কারণে কপাল পুড়তে পারে মুন্সিগঞ্জ-১ এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের। শুরুর দিকে এলাকায় নিজের অবস্থান ভালো থাকলেও পরবর্তীতে নানা অপকর্মের কারণে তিনি অনেকটাই বেকায়দায় আছেন। এই আসনে দলের সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ দলের নেতারাই।

গাইবান্ধা-২ আসনের মাহাবুব আরা গিনি, গাইবান্ধা-৪ আবুল কালাম আজাদ এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার বিপক্ষে অভিযোগের পাহাড়।

ঢাকা-১৫-এর কামাল আহমেদ মজুমদার নেতা-কর্মীদের সাথে সম্পর্ক না রাখা, মনিপুর স্কুল নিয়ে দূর্ণিতির অভিযোগ, দলীয় কোন্দল সৃষ্টি, রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা-১৬ আসনের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা’র বিরুদ্ধে রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি, ভূমি দখল, কালসীতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম-৩-মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম-১১-এর এম আব্দুল লতিফ, চুয়াডাঙ্গা-১-এর সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, যশোর-১-এর শেখ আফিল উদ্দিন, বরিশাল-২-এর তালুকদার মো. ইউনুস, নেত্রকোনা-২-এর আরিফ খান জয় (উপমন্ত্রী), মানিকগঞ্জ-৩-এর জাহেদ মালেক স্বপন, নওগাঁ-৬-এর ইসরাফিল আলম, রাজশাহী-১-এর ওমর ফারুক চৌধুরী, মেহেরপুর-১-ফরহাদ হোসেন, যশোর-৫-এর স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর-৬-এর ইসমাত আরা সাদেক, খুলনা-২-এর মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, সহ শতাধিক এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.