সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭
বিশেষ নিউজ

মোদির আমলে ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়েছে


NEWSWORLDBD.COM - June 30, 2017

ভারতে মুসলিমদের ওপর যত হামলা হয়েছে তার ৯৭ শতাংশই ঘটেছে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে…

হিন্দুস্তান টাইমস: ভারতে ২০১০ সালের পর থেকে গরু-সংক্রান্ত সহিংসতায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই মুসলিম। আর এ গরু নিয়ে মুসলিমদের ওপর যত হামলা হয়েছে তার ৯৭ শতাংশই ঘটেছে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে।

এই সময়ে গরু-সংক্রান্ত হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ছাড়াও আহত হয়েছেন ১২৪ জন। এসব হামলার অর্ধেকের বেশি (৫২%) হয় শুধুই গুজব ছড়িয়ে।

গত আট বছরে অর্থাৎ ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গরু-সংক্রান্ত সহিংসতার ৫১ শতাংশের প্রত্যক্ষ শিকার হন মুসলিমরা। তুলনামূলক হিসাবে এ সময়ে ৬৩টি উল্লেখযোগ্য হামলার ঘটনায় যে ২৮ জন নিহত হয়েছেন, তাঁদের ৮৬ শতাংশ মুসলিম। ইন্ডিয়াস্পেন্ড-এর এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গো-মাংসকে কেন্দ্র করে যত হামলা হয়েছে, তার ৯৭ শতাংশ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালের মেতে ক্ষমতায় আসার পর। ৬৩টি হামলার প্রায় অর্ধেক বা ৩২টি হয়েছে মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে। ২৫ জুন পর্যন্ত হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত সাত বছরে নিহত ২৮ ভারতীয়র মধ্যে ২৪ জনই মুসলিম; যা শতকরা হিসাবে ৮৬ শতাংশ। এ সময়ে সংঘটিত হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১২৪ জন। গবেষণায় দেখা যায়, হামলার ৫২ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে গুজবে ভর করে।

জাতীয় পর্যায়ে বা রাজ্যভিত্তিক সহিংসতার পরিসংখ্যানে বিশেষ কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। গরু নিয়ে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় ক্রমবর্ধমান জাতীয় বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়াস্পেন্ড-এর এমন পরিসংখ্যান এটাই প্রথম।

২০১০ সালের পর গরু-সংক্রান্ত সহিংসতা বিবেচনায় চলতি ২০১৭ সালই ছিল সবচেয়ে খারাপ বছর। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ২০টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়; যা গত বছরের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি।

সহিংসতার ধরনের মধ্যে রয়েছে উন্মত্ত জনতার পিটুনি, গরু-সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর নজরদারি করতে নিয়োজিত তথাকথিত কমিটির সদস্যদের হামলা, হত্যা, হত্যার চেষ্টা, হয়রানি, আকস্মিক আক্রমণ ও গণধর্ষণের মতো ঘটনা।

বেশির ভাগ হামলা হয়েছে ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ১৯টিতে। এগুলো হলো উত্তর প্রদেশ (১০), হরিয়ানা (৯), গুজরাট (৬), কর্ণাটক (৬), মধ্যপ্রদেশ (৪), দিল্লি (৪) ও রাজস্থানে (৪)। হামলার ২১ শতাংশের বেশি হয়নি (৬৩টির ১৩টি) দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে (পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশাসহ)। তবে এই ১৩টির প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৬টিই হয়েছে কর্ণাটকে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে শুধু আসামে একটি ঘটনা রেকর্ড করা হয় গত ৩০ এপ্রিল। তাতে দুজন নিহত হন।

৬৩টি হামলার মধ্যে ৩২টি হয় বিজেপিশাসিত রাজ্যে; ৮টি কংগ্রেসশাসিত রাজ্যে ও বাকিগুলো সমাজবাদী পার্টি (উত্তর প্রদেশ), পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (জম্মু ও কাশ্মীর) ও আম আদমি পার্টিসহ (দিল্লি) অন্য দলগুলোশাসিত রাজ্যগুলোতে।

হামলার ধরনের মধ্যে গণপিটুনি বিষয়ে ২৫ জুন ইন্ডিয়া টুডে-এর খবরে বলা হয়, ভারতীয় দণ্ডবিধিতে এর উল্লেখ নেই। এটা মোকাবিলায় কোনো আইন পাসেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে উন্মত্ত জনতার আক্রমণ বা গণপিটুনির ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দুরূহ হয়ে উঠেছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় দেখা গেছে এগুলোর পাঁচটির একটিতে পুলিশ হামলাকারীর বদলে হামলার শিকার ব্যক্তি বা তা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার লোকের বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকেছে। ৫ শতাংশ হামলার ঘটনায় কোনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের কথা জানা যায়নি। ২৩টি ঘটনায় হামলাকারীরা ছিলেন সংগঠিত বা গ্রুপভিত্তিক। তাঁরা ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল ও স্থানীয় গো-রক্ষক সমিতির মতো অতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor-In-Chief & Publisher: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.