সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭
বিশেষ নিউজ

স্বভাব ভালো হলো না বিএনপি’র নেতাকর্মীদের


NEWSWORLDBD.COM - June 30, 2017

বিশেষ প্রতিনিধি: নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ফের উন্মোচিত করেছে জনসমক্ষে। ঈদের মতো পবিত্র ও সৌহার্দ্যের দিনে খোদ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ও মারপিট দলটির বিশৃঙ্খল ভাবমূর্তি আবারো প্রকাশ করে দিয়েছে।

দল হিসেবে বিএনপির এখানকার নাজুক ও শোচনীয় পরিস্থতির কথা কারো অজানা নেই। আদর্শহীনতা, নেতৃত্বের বিপথগামিতা, স্বজন ও আঞ্চলিকতাপ্রীতি, অর্থের মাধ্যমে পদ-পদবি কেনা-বেচার কারণে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা একেবারে তলানিতে চলে আসার জ্বলন্ত প্রমাণ ঈদের দিনের ঘটনায় দেখা গেল। কেন বার বার বিএনপি রাজনৈতিকভাবে অর্থবহ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, তাও নতুন করে টের পাওয়া গেল। এমন একটি বল্গাহীন, নিয়ন্ত্রণহীন, মারমুখী রাজনৈতিক জনশক্তি দিয়ে আসলেই যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয় না, বিএনপি নিজেই সেটি প্রমাণ করল। কেন বিগত দিনে খালেদার ডাকে আন্দোলন হয়নি এবং কেন নিঃসঙ্গ নেত্রীর পেছনে কেউ আসেননি- এমন উন্মত্ত নেতাকর্মীদের দেখেই সেটি বিলক্ষণ টের পাওয়া যায়।

দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল যে ভালো- তা দুনিয়াশুদ্ধ লোক মানলেও বিএনপি বা খালেদা জিয়া, বা তারেক রহমানরা মানতে নারাজ। দলে শুদ্ধি অভিযানের এতো তাগিদ থাকলেও দল তা গ্রাহ্য করে না। বিএনপির যেসব দুর্নীতিবাজদের জন্য ১/১১-এর মতো চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাদেরকে শুদ্ধ করা দূরে থাকুক, বরং জামাই আদরে রাখা হচ্ছে। তারা যে আত্মঘাতী কলহে দলকে শেষ করে দিচ্ছেন, এমনকি খালেদা জিয়ার সামনে পর্যন্ত বেপরোয়া আচরণ করছেন, তাতেও কারো বোধোদয় হচ্ছে না।

 

বরং বিএনপিতে এখন সবচেয়ে ‘প্রভাবশালী’ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, যিনি পতনের শেষ দিন পর্যন্ত এরশাদের আনুগত্য করেছেন। নোয়াখালীতে পরাজিত এহেন মওদুদকে এক পর্যায়ে বগুড়া থেকেও পাস করিয়ে এনেছিল বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে শত কোটি টাকার সরকারি বাড়ি দখলকারী মওদুদ তার বাড়ির ইস্যুকে দলের এজেন্ডা বানিয়েছেন। তারেক জিয়া ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিষয় ও মামলা-মোকদ্দমাও এখন বিএনপির প্রধান এজেন্ডা! ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়- এ আদর্শমূলক কথা বিএনপির জন্য মোটেও খাটে না।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ব্যক্তিগত এজেন্ডার জন্য দলের ত্যাগী কর্মীরা আত্মাহুতি দেবেন কেন? কেন জেল-জুলুম খাটবেন ব্যক্তি বিশেষের প্রয়োজনে? জনগণই বা কেন জাতীয় ইস্যুর বদলে ব্যক্তিগত এজেন্ডাধারী বিএনপিকে পছন্দ করবেন?

 

বিশেষত, যে দলের নেতাকর্মীরা বিরোধী দলে থাকতেই শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে সন্ত্রাসী আচরণ করেন, তাদের ওপর কতোটুকু ভরসা করা যায়? ক্ষমতায় গেলে এসব উগ্র, শৃঙ্খলাহীন, লাগামছাড়া নেতাকর্মীরাই জনগণের বারোটা বাজিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবেন- তাতে আর সন্দেহ কি!

বিএনপি স্বীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলটির প্রকৃত চিত্র সবার সামনে তুলে ধরে নিজের নীতিহীনতার ছবি ও দেউলিয়া পরিস্থিতিই উপস্থাপন করেছে। এ ছবি নিশ্চয়ই বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন মানুষ মনে রাখবেন এবং নিজেদেরকে সতর্ক হতে কাজে লাগাবেন।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের মতো এবারও পেশাজীবী-কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে তার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পুরো অনুষ্ঠানটিই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে গেছে। এজন্য আগত সংবাদকর্মীসহ অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

ঈদের দিন সোমবার ২৬ জুন সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

সেদিন ১০টা থেকেই বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন আয়োজনস্থলে। শুরু থেকেই মঞ্চের কাছাকাছি দাঁড়ানো নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও গালাগালের ঘটনাও ঘটে। চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যায় খালেদা অনুষ্ঠানের মঞ্চে এসে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করার পর। বারবার সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরে শুভেচ্ছা জানানোর আহ্বানের পরেও কেউ মানছিলেন না। বিএনপি প্রধানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ ও স্বেচ্ছাসেবকদের বাধা ডিঙিয়ে সিড়ির ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন গুটিকয় বিশৃঙ্খল নেতাকর্মী। সিঁড়ির কাছে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় তা পরে ছড়িয়ে যায় স্টেজেও।

এক পর্যায়ে মঞ্চের ওপরেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন কয়েকজন। কেউ কেউ বাধা টপকে গিয়ে খালেদা জিয়ার মঞ্চে উঠে পড়েন।

স্বয়ং খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খলাকে ভালোভাবে নেননি কেউই। ল‍াইন ভেঙে খালেদার শুভেচ্ছা বিনিময় মঞ্চে উঠে গেছেন গুটিকয় নেতাকর্মী। ছবি: উর্মি মাহবুবশুভেচ্ছা বিনিময়ে আসা একজন কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ম্যাডাম স্টেজে থাকতেই যে অবস্থা হলো মঞ্চে, তাতেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা। কেউ কারও কথা শুনছেন না। যার যা ইচ্ছা তা-ই করছেন।

 

খালেদার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ।

ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর খালেদা জিয়া চন্দ্রিমা উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যান।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor-In-Chief & Publisher: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.