সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭
বিশেষ নিউজ

নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনাকে বিদেশে থাকতে বলবে বিএনপি


NEWSWORLDBD.COM - July 24, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা সুস্পষ্টভাবে বারবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধিনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বিএনপি সে নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে। এমন প্রেক্ষিতে বিএনপির প্রত্যাশা আগামী নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এ আশাও করছে যে সংসদ ভেঙ্গে দিলে নির্বাচনে ‘প্লেইংফিল্ড’ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বিএনপির এ প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, একটি মুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্যেই বিএনপি এধরনের প্রত্যাশা করছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফর থেকে দেশে ফিরে এসে যে সহায়ক সরকার হিসেবে প্রস্তাবনা থাকবে সেখানে এ ধরনের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হবে।

১৯৯৬-৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের কাছে ছুটি কাটাতে যান। বিএনপি এধরনের দাবি তুলতে যাচ্ছে শেখ হাসিনা এমনভাবেই আগামী নির্বাচনের সময় দেশের বাইরে ছুটি কাটাতে যাবেন। সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনার সঙ্গে ঘনিষ্ট বিএনপির নেতারা এধরনের তথ্য জানিয়েছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার নির্বাচন নিয়ে বা নির্বাচনের সময় সরকারের ধরন নিয়ে বিএনপির সংলাপের আহবান নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার যদি এধরনের সংলাপে সাড়া দেয় তাহলে বিএনপি বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেবে। আর সংলাপে আওয়ামী লীগ সরকার সাড়া না দিলে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের রুপরেখা সম্পর্কে প্রস্তাবনা দেওয়া হবে এবং লন্ডন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন ফিরে এলেই সে ঘোষণা দেবে দলটি। লন্ডনে চিকিৎসার জন্যে বেগম জিয়া গিয়েছেন এবং তিনি তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় উঠেছেন। লন্ডনে একাধিক দলীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন বেগম জিয়া। আলোচনা হচ্ছে সহায়ক সরকারের রুপরেখা নিয়েও।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দলের প্রধান দাবি হচ্ছে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন না। যদি তিনি তা থাকেন তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না। নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকলে সরকারের সব ধরনের প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের হয়েই কাজ করবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও বিএনপি একই ধরনের দাবিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। ওই সময় ২৯ সদস্যের নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধিনেই নির্বাচনের ৩ দিন আগে কাজ শুরু করে ও নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করে।

বিএনপির তরফ থেকে এমন প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, নির্বাচনের সময় দেশেও থাকবেন না কিন্তু আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার বেশ কিছুটা খর্ব হোক এমনও চাইতে পারে বিএনপি। দলটি মনে করছে এর ফলে নির্বাচনের আগে প্লেইনংলেভেল ফিল্ড তৈরি হবে এবং সকল দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এছাড়া বিএনপি প্রেসিডেন্ট, স্পিকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিতে পারে। এধরনের সরকারে বর্তমান মন্ত্রিসভার ১০ থেকে ১২ জন সদস্য, বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। এসব প্রস্তাবনা নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে আলোচনা হবে বলে আশা করছে দলটি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যথাসময়ে জাতির সামনে তা উপস্থাপন করা হবে। নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে না থাকার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন, সবই জানতে পারবেন।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, সহায়ক সরকারের খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। বেগম জিয়া লন্ডনে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর দেশে ফিরে তা চূড়ান্ত করবেন। বিএনপির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি রুহুল কবির রিজভি বলেন, সহায়ক সরকারের প্রস্তাব তৈরি হলে জাতির সামনে তা চেয়ারপারসন উপস্থাপন করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এধরনের প্রস্তাব সকল রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও দেশের জন্যে ভাল হবে।

আওয়ামী লীগের নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচনের আগে ১০ম সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া হবে। তবে সংসদ ভেঙ্গে দিলেও সংবিধানের ৫৭ ধারার ৩ উপধারা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার পদে আসীন থাকবেন। যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যকালের মেয়াদের কথা উল্লেখ করে। নির্বাচনে নির্বাচিত ও নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেউ দায়িত্ব না আসা পর্যন্ত সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রীই তার দায়িত্ব পালন করবেন। সাংবিধানিক নির্দেশাবলীর অধিীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ বিষয়ে ক্ষমতাসী আওয়ামী লীগের এখনো দৃঢ় অবস্থান রয়েছে যা বিএনপির নেতাদের সচেতন করে তুলছে এবং সহায়ক সরকারের রুপরেখা তৈরিতে উদ্যোগী করেছে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor-In-Chief & Publisher: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.