বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭
বিশেষ নিউজ

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে আলটিমেটাম


NEWSWORLDBD.COM - August 22, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সমালোচনার পরদিন তার পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ জানান, বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পদত্যাগের আল্টিমেটাম সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস বলেন, গত পরশু দিন প্রধান বিচারপতি তাঁর এজলাসে বসা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে চোখ রাঙানির মাধ্যমে এ বক্তব্য দিয়েছেন যে,পাকিস্তানের মতো প্রধানমন্ত্রীকে নাকি তিনি পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তাঁর শপথ ভঙ্গ করেছেন।

তাপস বলেন ‘প্রধান বিচারপতি এজলাসে বসে প্রধানমন্ত্রীকে এ রকম হুমকি দেওয়া নজিরবিহীন। এটা শপথ ভঙ্গের শামিল। সুতরাং আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে এই রায়ের প্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক বক্তব্য প্রত্যাহারসহ সম্পূর্ণ রায় বাতিল করে অচিরেই তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় আগামী অক্টোবর থেকে এক দফা আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে অপসারণ করার আন্দোলন কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন,‘আমি একটি কথা বলতে চাই, বাংলাদেশ ইজ নট পাকিস্তান, এটা মনে রাখতে হবে। এ বাংলাদেশ রক্তের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ ‍মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। এটা অসাম্প্রদায়িক-অগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। কাজেই ওই সব কথা বলে পার পাবেন না। আগামী ২৪ আগস্ট আমরা এ দাবিতে আবার মিলিত হবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে বলেছিলাম ২৪ তারিখের মধ্যে আপনার অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এখনো সময় আছে আপনি আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করুন।’

প্রসঙ্গত, গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর আগে গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এ মামলায় নয়জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তাঁরা হলেন ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, বিচারপতি টি এইচ খান, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল ও এ জে মোহাম্মদ আলী।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র। রায়ে আরো বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে।

আদালত রায়ে আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারেন না। তাঁরা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে সাংসদদের সব সময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাঁরা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও বিভিন্ন উন্নত দেশে সাংসদদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

রায়ে বলা হয়, মানুষের ধারণা হলো, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেন, রায় দেওয়ার আগে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ করা উচিত ছিল। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবির জানিয়ে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

এ ছাড়া রায়ের পর স্বাগত জানান বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Chief Editor & Publisher: A. K. RAJU

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: 9635272, 01787506342

©Titir Media Ltd.
39, Mymensingh Lane (2nd Floor), Banglamotor
Dhaka, Bangladesh.