রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » প্রধান বিচারপতির পর এবার তোপের মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার
বিশেষ নিউজ

প্রধান বিচারপতির পর এবার তোপের মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার


NEWSWORLDBD.COM - October 15, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধান সংশোধনী বাতিল করে সবকিছুতেই আওয়ামী লীগের ‘আমিত্ব ও বড়াই করার মনোভাব’-এর সমালোচনা করে শেষ পর্যন্ত দেশত্যাগী হলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এ নিয়ে দেশে তুমুল আলোচনার মধ্যেই রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বিরোধী বিএনপি’র সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বিএনপি সরকারের আমলগুলোতে বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। এতে বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও কি প্রধান বিচারপতির মতো ‘ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ছুটি নিতে হচ্ছে?’

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে বসে দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, “ব্যক্তি হিসেবে এবং দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। জিয়ার হাত দিয়েই বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।”
নির্বাচন ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে রোববার বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে এই বহুল আলোচিত সংলাপ শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজনও ছিলেন। সংলাপের শুরুতে লিখিত সূচনা বক্তব্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরেন নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি প্রায় নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছে। পরে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। “বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে।”

সংলাপে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, “আজকের সংলাপে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অনেকেই সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেছেন। মন্ত্রী থাকাকালে আপনাদের অনেকের অধীনে আমি চাকরি করার সুযোগ পেয়েছি। অনেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার ভূমিকা রেখেছেন।” রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে বিএনপি সরকার দেশে ‘প্রকৃত নতুন ধারার’ প্রবর্তন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির রাষ্ট্রপরিচালনার প্রশংসায় নূরুল হুদা বলেন, “বিএনপি সরকার দেশে বহুবিধ উন্নয়ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলককরণ, পৃথক প্রাথমিক গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যটালিয়ান গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠা, আইন কমিশন গঠন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছরে উন্নীতকরণসহ অনেক উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম বিএনপি সরকার করেছে।”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এখন সংসদের বাইরে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে তা মেনে না নেওয়ার কথা বলে আসছেন বিএনপি নেতারা। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলে আসছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে, এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, “বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আজকের সংলাপের দিকে জাতি তাকিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অধীর আগ্রহ ও অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে, অতি ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করছে। কমিশন বিএনপির সঙ্গে সফল সংলাপ প্রত্যাশা করে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের পর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কারণ, আওয়ামী লীগের দ্বারা মনোনীত হয়ে সিইসি হওয়া নুরুল হুদার মুখে বিএনপির প্রশংসা সরকারের নীতি নির্ধারকরা ভালো চোখে দেখছে না।

প্রসঙ্গত, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারা সংলাপ করছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাথে বসবে নির্বাচন কমিশন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor-In-Chief & Publisher: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.