রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭
বিশেষ নিউজ

‘বোলিংই নয়, ব্যাটিংও খারাপ হয়েছে’


NEWSWORLDBD.COM - October 17, 2017

স্পোর্টস ডেস্ক: ২৭৮ রান করেও ১০ উইকেটে হার। সমর্থক-ভক্ত সবার মন খারাপ। একটা হতাশা চারিদিকে। কেন এমন করুণ পরিণতি? কিম্বার্লির উইকেটে ২৮০‘র মত স্কোর কী কম? নাকি বোলাররা নিজেদের সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি? তাদের কমজোরি ধারহীন ও দূর্বল ও বেহিসেবি বোলিংয়ের কারণেই কি এমন লজ্জাষ্কর হার? চারিদিকে কৌতুহলি প্রশ্ন।

জাতীয় দলের তিন সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, খালেদ মাসুদ পাইলট ও হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, খালি চোখে ২৭৮কে অনেক রান মনে হলেও, কিম্বার্লির শতভাগ ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এ রান অনেক কম।

তারপরও তারা তিনজই একমত, বোলিং বিশেষ করে- ফাস্ট বোলিং তেমন ভাল হয়নি। কারো বলেই ধার ছিল না। এমন কমজোরি ও ধারবিহীন বোলিং দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সমীহ আদায় করা খুব কঠিন।

আকরাম খানের মতে অন্তত আরও ৩০ থেকে ৪০ রান বেশি হওয়া উচিৎ ছিল। আর খালেদ মাসুদ পাইলট মনে করেন, বোলিং শক্তি যেমনই থাকুক না কেন, এ পিচে সাড়ে তিনশোর নিচে রান করে জেতা যাবে না।

অন্যদিকে হাবিবুল বাশারের অনুভব ও উপলব্ধি, খুব বেশি না হলেও অন্তত আরও ২০-২৫ রান বেশি হওয়া উচিৎ ছিল। তাহলে খেলার ফল ভিন্ন না হলেও আরও লড়াই হবার সম্ভাবনা ছিল।

জাতীয় দল পরিচালনা, পরিচর্যা ও তত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খানের কাছে জাগো নিউজের প্রশ্ন ছিল; কোন জায়গায় সমস্যা? রানটা কী খুব বেশি কম হয়ে গেছে? নাকি বোলিং ভাল হয়নি?

আকরাম খান বিস্তারিত ব্যাখ্যায় অনেক কথাই বলেছেন। তবে তার কথার সারমর্ম হলো, আসলে বোলিংটা ভাল হয়নি। বোলিং আরও ভাল হওয়া উচিৎ। বোলারদের বলের ধার বাড়াতে হবে। তার অনুভব- ‘আসলে এ ম্যাচেই আমাদের বোলারদের সত্যিকার কোয়ালিটি ফুটে উঠেছে।’

তারপরও আকরাম মনে করেন, ব্যাটসম্যানরাও সত্যিকার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। তাই তো আকরামের কন্ঠে এমন কথা, ‘আসলে ব্যাটসম্যানরা সেট হয়ে আউট হয়ে গেছে। না হয় আরও রান হতে পারতো। হবার যথেষ্ঠ সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল। তারপরও যে রান ছিল, সেটা একদম ভাল, তাও নয়। আবার খুব কমও না। এই রান নিয়ে খুব ভাল বল করতে হয়। আমাদের ফাস্ট বোলাররা সেই ভাল বোলিংটাই করতে পারেনি। এতে তাদের কোয়ালিটি কী, তা বোঝা গেছে।’

মুশফিকুর রহীমের প্রশংসা করে আকরাম বলেন, মুশফিক খুব ভাল ব্যাটিং করেছে। তার সাথে আর কেউ একজন ৬০-৭০ কিংবা ৮০ করতে পারলইে তো আমাদের স্কোরলাইন অনেক লম্বা চওড়া হয়ে উঠতো। লিটন ভাল শুরু করছে; কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। আমার মনে হয় এ ধরনের ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট থেকে আরও সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। তামিম থাকলে ভাল হতো।’

আকরাম খানের শেষ কথা, খালি চোখে রান অনেক কম মনে হচ্ছে। আমিও তা মানি। তবে যে বোলিং হয়েছে, তাতে আরও বেশি রান করেও জেতা সম্ভব না। লড়াই করতে হলে, প্রতিদ্ব›িদ্বতা গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই বোলিং ভাল করতেই হবে।’

হাবিবুল বাশারের ধারণা, কখনো কখনো ২০ রানও পার্থক্য গড়ে দেয়। কাল আর ২০ থেকে ২৫ রান হলেও দৃশ্যপট ভিন্ন হতে পারতো। বাশারের মত, ‘ওপেনিং ভাল হওয়া খুব জরুরী। মুশফিক সেঞ্চুরি করেছে। খুব ভাল; কিন্তু ওপেনারদের রোল আরও বড় হওয়া উচিৎ। প্রথম তিনজনের যে কোন একজনের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস বেরিয়ে আসলে ভাল হতো। ভাল খেলতে খেলতে ২০/২২ রানে আউট হয়ে গেলে কোন লাভ নেই। তাতে দলের কোন উপকার হয় না।’

উপরের দিকে লম্বা ইনিংসের প্রয়োজনীয়তা বোঝালেন বাশার, ‘আমাদের ওপরের দিকে একজনের একটা লম্বা ইনিংস দরকার। তাহলে দল উপকৃত হবে। কাল একজন অমন ইনিংস খেলতে পারলে তার সাথে মুশফিকের সেঞ্চুরি যোগ হলে দলের অবস্থা অবশ্যই আরও ভাল থাকতো।’

তবে বোলিং নিয়ে বাশার ততটা নেতিবাচক কথা বলতে নারাজ। তার ব্যাখ্যা, ‘আসলে শতভাগ ব্যাটিং সহায়ক পিচ। আর দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার ডি কক ও হাশিম আমলাও অসাধারন ব্যাটিং করেছে।’

উইকেট ফ্ল্যাট এবং প্রোটিয়ারা ভালো ব্যাটিং করেছে বলে মনে করেন বাশার। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, উইকেট একদম ফ্ল্যাট। আর প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরাও খুব ভাল। আমাদের বোলারদের এটা এক ধরনের বোলিং পরীক্ষা। এমন কন্ডিশনে আসলে কি করা উচিৎ, আর কি করা উচিৎ নয়, তা তারা শিখছে। আমার মনে হয় তারা চেষ্টা করছে। কষ্টও করছে; কিন্তু হচ্ছে না।’

এই না হবার একটা সম্ভাব্য কারন চিহ্নিত করেছেন হাবিবুল বাশার। তার মূল্যায়ন, ‘আসলে ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভাল দল। কঠিন শক্তি। যে কোন পারস্পরিক সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা সব সময়ই অন্যরকম দল। আর সেটা নিজ মাটিতে হলে তো কথাই নেই। রীতিমত দুর্দমনীয়। হ্যাঁ, কোন টুর্নামেন্ট বা বিশ্ব আসরে হয়ত প্রোটিয়াদের রেকর্ড অত ভাল না; কিন্তু যে কোন সিরিজে বিশেষ করে ঘরের মাঠে তারা সব সময়ই দারুণ দল। সেই দলের সাথে তাদের মাটিতে আসলে পারাও মুশকিল।’

অন্যদিকে খালেদ মাসুদের সোজা-সাপ্টা উচ্চারণ, ‘কিম্বার্লির এ উইকেটকে আমার ব্যাটিং স্বর্গ বলেই মনে হয়েছে। আমার মনে হয় ঐ পিচে সাড়ে তিনশোর নীচে রান নিরাপদ নয়। আমরা কোথায় আছি? তা জানা হয়েছে। হবে। আরও সাপোর্ট দরকার ছিল। এমন কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত না। তারপরও উইকেটটা খুব ভাল হবে। ঘাসের উইকেট না। বাউন্সও তেমন বিপজ্জনক নয়। উইকেটে কোন মুভমেন্ট ছিল না। ২০-৩০ রান করে আউট হয়ে গেছি। মুশফিক একা খেলেছে। টপ অর্ডারে আর একজনও যদি ভাল করতো, তাহলে ৩০-৪০ রান বেশি হতো।’

বোলিং নিয়ে কাজ করার কথা বললেন পাইলট। তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলিং নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের বোলিং নিয়ে অনেক কিছু করার আছে। ভারতের বোলিং মানে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টও আহামরি ভাল না। এখনো ওই অর্থে বিশ্বমানের কোয়ালিটি ফাস্ট বোলারের কমতি আছে; কিন্তু তারা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে, বুদ্ধি খাটিয়ে বল করে এখন সাফল্য তুলে নিচ্ছে। আমাদের বোলারদের মধ্যে খেয়াল করুন, মাশরাফি তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে। বুদ্ধি খাটিয়ে বল করছে। তাই তাকে ইচ্ছেমত যেখান দিয়ে খুশি শট খেলাও কঠিন হচ্ছে। এটাই দরকার।’

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor-In-Chief & Publisher: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.