বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারী ২০১৮
বিশেষ নিউজ

মেজবানের দাওয়াত দিয়ে চট্টগ্রামে ১০ হিন্দুকে হত্যা: দায় নেবে কে?


NEWSWORLDBD.COM - December 18, 2017

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লিগ নেতা ও প্রাক্তন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির কাঙালি ভোজে পদদলিত হয়ে অন্তত দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীর। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান আসকার দীঘির পাড়ে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার জানান, ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে অন্তত ১৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে দশজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের নাম জানাতে পেরেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন- কৃষ্ণপদ দাশ (৪০), সুবীর দাশ (৫০), ঝণ্টু দাশ (৪৫), প্রদীপ তালুকদার (৪৫), লিটন দেব (৫৩) ও ঘনা শীল (৬০)।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেল জানান, ১৫ ডিসেম্বর সোমবার মারা যাওয়া মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু পরবর্তী কাঙালি ভোজের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের জন্য ওই ভোজের আয়োজন করা হয়। জামালখান পাড়ার ‘রিমা কনভেনশন সেন্টার’-এ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্য ধর্মালম্বীদের জন্য আলাদা ভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকেই নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে মেজবান খেতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ভিড় জনস্রোতে রূপ নেয়। বিশৃঙ্গলা এড়াতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হলেও, হুড়োহুড়ি করতে গিয়েই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণি জানান, দুই তলা ওই কমিউনিটি সেন্টার ভবনের নিচতলায় মূলত গাড়ি রাখা হয়। বসা ও খাওয়ার ব্যবস্থা দোতলায়। আসকার দীঘির পাড় কিছুটা নিচু এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার অধিকাংশ ভবনের মত রীমা কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশ পথও বেশ খানিকটা ঢালু। সেখানেই ভিড়ের মধ্যে পদদলনের ঘটনা ঘটে।

হুড়োহুড়ির ঘটনায় আহত অনুপ দাশ বলেন, “ফটকের বাইরে ছিল অনেক মানুষের ভিড়। ঢোকার সময় পেছনের চাপে সামনে ওই ঢালু জায়গায় থাকা বেশ কয়েকজন পড়ে যান। তখন তাদের ওপর দিয়েই পেছনের লোকজন হুড়মুড় করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ফলে অনেক মানুষ হতাহত হয়।”

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “অনেকে পড়ে গেছেন, মানুষের ভিড়ের কারণে অনেকে পদদলিত হয়েছেন।”

এই আয়োজনে রীমা কমিউনিটি সেন্টারের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আন্দরকিল্লার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নগর আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারী। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা এবং শেষকৃত্যের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, রাউজানের সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী এবং নগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এর আগে বাংলাদেশে পদদলনে হতাহতের দুটো বড় ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছর জুলাই মাসে ময়মনসিংহে জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে ২৭ নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়। তার আগে মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী পুণ্যস্নানের সময় পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Chief Editor & Publisher: Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.