বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির তো অস্তিত্বই তো নেই’


NEWSWORLDBD.COM - December 27, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বিভিন্ন কর্মসূচি এখন শুধু নিজেদের ‘বাঁচার তাগিদেই’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ‘দুর্নীতি-লুটপাটের প্রতিবাদে’ সরকারের বাইরে বিরোধী শিবিেরে থাকা বাম দলগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য আসে ছাত্রজীবনে বামরাজনীতি করা মুহিতের কাছ থেকে।

সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ে গেলে মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। দৈনিক বাংলা মোড় পার হওয়ার পর মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়। ব্যাংক খাত নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা অর্থমন্ত্রী মুহিতের কাছে সচিবালয়ে বামদের কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। মুহিত বলেন, “ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণে সরকারের দুর্বলতা আছে, এটা ঠিক। তবে যেটা সিপিবির এক্সপানশন তা ননসেন্স ছাড়া কিছুই করে না। তাদের তো কোনো অ্যাকজিসটেন্স নাই। ওই দুই-চারজন নেতা আছেন, তাদের বাঁচতে হয়, এইসব বাঁচার জন্য, এগুলো লাল পতাকা দেখানো।”

গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে সিপিবি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক ফোরাম সংস্কৃতি সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুহিত। কর্মজীবনে আমলা হিসেবে কাজ করে আসা মুহিত সামরিক শাসক এরশাদের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের প্রায় দুই দশক পর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এখন তৃতীয় মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে দুর্নীতি-অনিয়ম প্রকাশ্য হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকরা তুলে ধরলে মুহিত বলেন, “সেজন্য প্রশ্ন হতে পারে, তবে সেজন্য ঘেরাও করা, এটা একটু ছেলে খেলা।”

এদিকে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ‘দুর্নীতি-লুটপাটের প্রতিবাদে’ বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখে বাম দলগুলোর মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা কর্মীরা বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে মিলিত হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে যাত্রা শুরু করেন। দৈনিক বাংলা মোড় পার হওয়া মাত্র মিছিলটি পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলকারীরা বাধা ডিঙাতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।

গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ সময় পুলিশি বাধার নিন্দা জানিয়ে নেতাকর্মীদের রাস্তায় বসে পড়ার নির্দেশনা দেন। বেলা ১২টার দিকে সেখানে দ্বিতীয় সমাবেশ হয়। বাম নেতারা সমাবেশে বলেন, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘চুরি, দুর্নীতি লুটপাট ও অর্থপাচারের’ প্রতিবাদেই তাদের এ কর্মসূচি। সাইফুল হক বলেন, “একটি জরিপ করে দেখা গেছে বাংলাদেশে এখন অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণা করার মতো অবস্থায় আছে।” বাম মোর্চার সমন্বয়ক বলেন, “বিদেশকে সেকেন্ড হোম বানিয়ে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার ২০০ কোটি টাকা পাচারের বিচার হচ্ছে। অথচ ওই সময় যে আরও হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে এবং গত নয় বছরেও যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এসবের বিচারও করতে হবে।”

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সরকারের সমালোচনা করে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “গত এক বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকারই টাকা পাচারের সুযোগ করে দিচ্ছে।” শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু বলেন, “মহিউদ্দিন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে রানা প্লাজার ধস নিয়ে কী বলেছিলেন তা সবাই জানেন। আর ফার্মার্স ব্যাংকের কী অবস্থা করেছেন তিনি?” কিছু ছাত্রলীগ নেতাও গত কয়েক বছরে ‘কোটিপতি’ হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদের মধ্যে বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন সমাবেশে বক্তব্য দেন।

মিছিলে বাধা দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শিবলী নোমান বলেন, “এটা একটা বাণিজ্যিক এলাকা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এভাবে মিছিল নিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.