বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বাজার বেড়েছে


NEWSWORLDBD.COM - December 28, 2017

আরমান হোসেন টুটুল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: এ বছর সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মোবাইল ফোন বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। তবে গত কয়েক বছরে যে হারে স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে, এ বছর বিক্রি সে হারে বাড়েনি। স্মার্টফোনের চেয়ে বিক্রি বেশি বেড়েছে সাধারণ ফোনের, যা ‘ফিচার ফোন’ হিসেবে পরিচিত।

মোবাইল ফোনের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা বলছেন, এ বছরও বাজারে চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের আধিপত্য বেড়েছে। এতে দেশীয় ব্র্যান্ডের বাজার হিস্যা কমেছে। আগামী বছরেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাশ্রয়ী মূল্য ও ব্র্যান্ডের নিশ্চয়তা থাকায় ক্রেতারা হুয়াওয়ে, অপো, শাওমির মতো চীনা ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের দেশের বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ এখন চীনা ব্র্যান্ডের দখলে রয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে চীনা ব্র্যান্ডের বাজার দখল বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে বিক্রি হওয়া ৩ কোটি ৪০ লাখ ইউনিট মোবাইল ফোনের মধ্যে স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ৯০ লাখের বেশি। ২০১৬ সালে বিক্রি হওয়া ৩ কোটি মোবাইল ফোনের মধ্যে স্মার্টফোন ছিল ৮০ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে ১০ লাখ ইউনিট। বিক্রি হওয়া ফোনের মধ্যে স্মার্টফোনের বাজার হিস্যার পরিমাণ ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ। ২০১৫ ও ২০১৪ সালে স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬৫ লাখ ও ৪০ লাখ ইউনিট।

তবে আর্থিক মূল্যের ভিত্তিতে বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি স্মার্টফোনের দখলে রয়েছে। স্মার্টফোন ও সাধারণ ফোন মিলিয়ে মোবাইল ফোনের বাজারের আকার এখন ১০ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে স্মার্টফোনের বাজার ৭ হাজার কোটি টাকার। ২০১২ সালে দেশে স্মার্টফোনের বিক্রি শুরু হয়। সে বছর স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ। সেটি গত ৫ বছরে ৩০ গুণের বেশি বেড়েছে।

মোবাইল ফোন বিক্রির হিসাবে বাজারে এখনো শীর্ষে রয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনি। সর্বনিম্ন আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৯ হাজার টাকায় বিভিন্ন মডেলের সিম্ফনির স্মার্টফোন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্মার্টফোন বেশি বিক্রি হয়।

বাজারে এখনো এক নম্বরে আছে সিম্ফনি। এ বছর বাজার বাড়লেও আমাদের বাজার হিস্যা কিছুটা কমেছে। আগামী বছর নতুন কারখানা চালুর কাজ করছে সিম্ফনি। সেটি হয়ে গেলে বাজারে সিম্ফনি আরও ভালো করতে পারবে বলে আমাদের আশা।’

স্মার্টফোন বাজারে দ্বিতীয় স্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্র্যান্ড স্যামসাং। বিক্রির হিসাবে পিছিয়ে থাকলেও বেশি দামের সেটের কারণে আর্থিক মূল্যে এগিয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। নোট মডেলের কারণে গত বছর বিশ্ববাজারে বড় ধরনের সংকটে পড়লেও বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের ব্যবসায় সেটির তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

স্মার্টফোন শ্রেণিতে চীনা ব্র্যান্ডের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে এগিয়ে আছে হুয়াওয়ে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোন বিক্রি করছে চীনা এই ব্র্যান্ড।

এ বছর দেশের বাজারে খুবই ভালো করেছে চীনের আরেকটি ব্র্যান্ড আইটেল। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল ফোন বিক্রি ২১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আইটেল ব্র্যান্ডের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ট্রানসান হোল্ডিংস বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে গাজীপুরে মোবাইল ফোন কারখানা চালু করতে যাচ্ছে চীনের এই ব্র্যান্ড।

ওয়ালটন গত অক্টোবর থেকে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ নামের মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা চালু করেছে। এই কারখানায় প্রাথমিকভাবে বছরে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.