শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

ভারতে বোমা বিস্ফোরণের আসামী তালহা শেখ বাংলাদেশে আটক


NEWSWORLDBD.COM - December 30, 2017

নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা হামলার মামলার আসামি আবু সাঈদ ওরফে তালহা শেখকে বাংলাদেশে আটক হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য ভারতের এনআইএ ১০ লক্ষ পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ার নন্দীগ্রাম থেকে শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে তাকে আটক করে বাংলাদেশের পুলিশ। বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঢাকা থেকে পাঠানো পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার রাত ১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ওমরপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গির অনেকগুলো নাম নিয়ে পালিয়ে থাকতো। সে বাংলাদেশে জেএমবির শুরা সদস্য ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি, চাকু ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান সনাতন।

ভারেতর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে ২০১৪ সালের ২ই অক্টোবর এক বড় আকারের তিনটি বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় শাকিল গাজি এবং করিম শেখ নামের দুই জঙ্গির। ওই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চলার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ বলছে, শুক্রবার রাতে গ্রেফতার হওয়া তালহা শেখ খাগড়াগড় বিস্ফোরণে মামলার ৩ নম্বর আসামী। সে সেখানে তালহা শেখ ছাড়াও শ্যামল নামে পরিচিত ছিল।

তালহা শেখকে আটকের পর শনিবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তাকে হাজির করে বগুড়ার পুলিশ সুপার ও ডিআইজি মোহাম্মদ বলেন, আবু সাইদ ওরফে তালহা শেখ ভারতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে জেএমবিকে সক্রিয় করার দায়িত্বও পালন করে। আট বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে গিয়ে স্থানীয় এক জঙ্গিনেতার মেয়েকে বিয়ে করে সেখানে জেএমবির কার্যক্রমে যোগ দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার আবু সাঈদ ওরফে তালহা শেখ। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশে আবার ফিরে এসে সে বাংলাদেশে জেএমবির শীর্ষ পরিচালনা পর্ষদ বা শুরা সদস্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের প্রধানের দায়িত্ব নেয়।

সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার বলেন, ২০০৫ সালে নওগাঁ জেলার জেএমবি প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই বছরের ১৭ আগস্ট সারা বাংলাদেশে ৬৪টি স্থানে একযোগে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবু সাঈদ। দুই বছর পর ভারতে পালিয়ে গিয়ে ২০০৯ সালে মুর্শিদাবাদের জেএমবি সদস্য ইয়াদুলের মেয়ে খাদিজাকে বিয়ে করে সেখানে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে। পুলিশ সুপার বলেন, তার অনেক গুলো নাম। যেমন: মোহামা্মদ আবু সাঈদ ওরফে আবু্দুল করিম ওরফে তৈয়ব ওরফে তালহা ওরফে শ্যামল শেখ ওরফে হোসাইন ওরফে সাজিদ ওরফে ডেঞ্জার ওরফে শাকিল ওরফে মোখলেছ ওরফে শফিক।

তালহা শেখ কুষ্টিয়া জেলার শ্রীকোল চর চাঁদপুরের শহীদুল্লাহ শেখের ছেলে। ২০০২ সালে জেএমবিতে যোগ দিয়ে উত্তরাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। ২০০৪ সালে রাজশাহী জেলার সামরিক প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০০৫ সালে জেএমবির নওগাঁ জেলার প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে ওই বছর ১৭ অগাস্ট সারা দেশে বোমা হামলার সময় নওগাঁয় তিনি চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মৃত্যুদণ্ড হলে ২০০৭ সালে সাঈদ ভারতে পালিয়ে যান। ২০০৯ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায় জেএমবি সদস্য ইয়াদুলের মেয়ে খাদিজাকে বিয়ে করে সেখানে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করেন। ২০১০ সালে ভারতের নদীয়া জেলার জেএমবি নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০১২ সালে নদীয়া জেলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও বর্ধমান জেলারও দায়িত্ব নেন। ২০১৪ সালে বর্ধমানে দায়িত্ব পালনকালে ২ অক্টোবর খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি (এনআইএ) আবু সাঈদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লাখ ভারতীয় রুপি পুরস্কার ঘোষণা করলে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। ২০১৫ সালের শেষের দিকে ‘নব্য জেএমবিতে’ যোগদান করে। সাংগঠনিক কাজে দক্ষ হওয়ায় ২০১৭ সালের প্রথম দিকে দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক প্রধান হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং শুরা সদস্যের দায়িত্ব নেন।

প্রসঙ্গত, খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর জঙ্গি নির্মূলে এনআইএ ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। এ ঘটনায় চার্জশিট দিতে গিয়ে এনআইএ দাবি করে, বাংলাদেশে সরকার উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়েই কার্যকলাম চালানো হচ্ছিল। ভারেত এনআইএ-র চার্জশিটে বলা হয়েছে, হিংসা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি কট্টরপন্থী শরিয়াভিত্তিক ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করাই ছিল জেএমবির লক্ষ্য। ওই চার্জশিটে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেই জেএমবির জঙ্গিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ঝাড়খণ্ডে শিবির গড়েছিল। চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে ২১ জনের নাম আসে, যাদের মধ্যে চার জন বাংলাদেশি বলে শণাক্ত করে এনআইএ। এদের একজনকে আগেই গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এখন হলো আরও একজন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.