বুধবার ১৮ জুলাই ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৪
বিশেষ নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৪


NEWSWORLDBD.COM - December 31, 2017

ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, যশোর থেকে: যশোর ঈদগাহ ময়দানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থলের আধিপত্য নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে জেলা যুবলীগের সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। রোববার সকালে যশোর ঈদগাহ মাঠে মিছিল নিয়ে ঢোকার সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন— জেলা যুবলীগের সদস্য ও শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকার রাজীবুল আলম (৪২), ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শহরের ষষ্টীতলাপাড়া এলাকার আশরাফুল কবির শিকদার (৪০), শহরের রায়পাড়া এলাকার ইমাম হোসেন (২২) ও কারবালা এলাকার বিপ্লব (৩০)।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগ দুই অংশে বিভক্ত। একাংশের নেতৃত্বে সাংসদ নাবিল আহমেদ ও অপর অংশের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাবিল আহমেদের অনুসারীরা একটি মিছিল নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে শাহীন চাকলাদারের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুজন ছুরিকাঘাতে আহত হন।

নাবিল আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজীবুল আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রায় দুই হাজার নেতা–কর্মীর মিছিল নিয়ে তাঁরা জনসভাস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। ঈদগাহ মোড়ে পৌঁছালে শাহীন চাকলাদারের লোকজন তাঁদের মিছিলে বাধা দেন। কারণ জানতে এগিয়ে গেলে তাঁরা ছুরি মারেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা বলেন, সভাস্থলের আধিপত্য নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাস্থলে ছিলেন না। তিনি যশোর মতিউর রহমান বিমানঘাঁটিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। পরে বেলা তিনটার দিকে তিনি যশোর ঈদগাহ মাঠের জনসভায় ভাষণ দেন।

১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও আরও ১৫টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং বিমানবাহিনীর শীতকালীন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন উপলক্ষে রোববার যশোর অবস্থান করছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিকেলে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতির পিতার কন্যা, আমি দেশের উন্নয়ন করতে এসেছি, দুর্নীতি করতে আসিনি।’

১৯৭৫ সালের পরের বাংলাদেশের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই ভাষণ আজ বিশ্ব দরবারে জায়গা করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পরে বাংলাদেশের উন্নয়ন এক অর্থে থেমেই ছিল। ১৯৯৬ সালে যখন আমরা ক্ষমতায় আসি তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম, শিক্ষার হার বেড়েছিল, দারিদ্র নিরসন হয়েছিল, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল।

আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে করা উন্নয়নের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বরগা চাষিরা ঋণ পেতো না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তারা সহজে যেন ভর্তুকির টাকা পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশে যশোরে বিরাট ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশে ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। যেন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।

‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক অভিযোগ করেছিল দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করবো। শুধু সেতু নয় রেল লাইন হবে। আমরা সেতু, রেল লাইন করে দিচ্ছি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে দিচ্ছি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি সরকারের সাথে বর্তমান সরকারের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু ঘোষণা নয়, আজ বাস্তব। আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তারা উৎপাদন বাড়ায়নি, কমিয়েছে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.