শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

প্রধানমন্ত্রী দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিলেন: ফখরুল


NEWSWORLDBD.COM - January 12, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দেওয়া এ বক্তব্য দেশকে আরো একদফা সংকটের দিকে নিয়ে যাবে। শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে যে অবস্থানের কথা বলেছেন তাতে তিনি দেশবাসীকে আরেক দফা সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

সরকারের চার বছর পূর্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এই ভাষণের পর রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণকে চরম হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ ভেবেছিলো দেশে একটা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মানুষ যে অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে পড়েছে, আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে একটি সুন্দর সমাধান দেবেন। কিভাবে আগামী নির্বাচনকে অর্থবহ করা যায় এবং বিরাজমান এ সংকট থেকে কিভাবে উত্তরণ হওয়া যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তার বক্তব্যের মধ্যে সেই সংকট নিরসনের কোনো লক্ষণ খুঁজে পাইনি।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে সত্যতার খুব একটা সম্পর্ক নেই। সবাই জানে ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিলো সেখানে মাত্র ৫ শতাংশ বা তারও কম মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। এতেই প্রমাণ হয়, আসলে তারা আন্তরিক নন। মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। তার (প্রধানমন্ত্রী) ভাষণ জনগণকে আশাহত করেছে।

ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কের অগ্রযাত্রায়’ কিন্তু আমরা মনে করি, দুর্নীতির মহাসড়কের অগ্রয়াত্রা। তারা যে উন্নয়নের কথা বলছেন, এর মধ্যে দুর্নীতি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতিমধ্যে ২টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের সময় নানা নেতিবাচক ঘটনা তুলে ধরেন। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে দলদুটির আগুন সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করেন।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ওই সময় নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েও আন্দোলনে ব্যর্থ হয় দলটি। পরে ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীনদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন করেও দলটি ব্যর্থ হয়। এখনো দলটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার দাবিতে আন্দোলন করছে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.