বুধবার ২৩ মে ২০১৮
বিশেষ নিউজ

চট্টগ্রামে মাস্টার দা সূর্যসেনের ফাঁসি দিবস পালন


NEWSWORLDBD.COM - January 13, 2018

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্রদ্ধা ও যথাযথ কর্মসূচীর মাধ্যমে শুক্রবার চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা মাস্টার দা সূর্যসেনের ৮৫ তম ফাঁসি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার দিনভর নানা অনুষ্ঠান পালন করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। মাস্টার দা সূর্যসেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে কর্মসূচীর মধ্যে তার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা। সভায় সূর্যসেনের আদর্শকে সমুন্নত রেখে আলোকিত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

মাস্টার দা সূর্যসেন ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়ে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ভিত্তি রচিত করেছিলেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে মাস্টার দার আদর্শ অনুপ্রেরণার উৎস। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য অবদানের জন্য উপমহাদেশজুড়ে আজও যে নামটি শ্রদ্ধা ও গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয় তিনি মাস্টার দা সূর্যসেন। চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের তিনিই ছিলেন সর্বাধিনায়ক। আজও তিনি বিপ্লবীদের আদর্শ, দেশপ্রেমের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত, আন্দোলনের প্রতীক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবদন্তী নায়ক।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে কিছুদূর এগোলেই প্রায় ১০ ফুট উঁচু একটি দেয়াল। ধূসর দেয়ালে মাস্টার দা সূর্যসেনের রঙিন প্রতিকৃতি। দেয়ালের সামনেই সাদা রং করা ফাঁসির মঞ্চ। বেদিটা ঢেকে রাখা হয়েছে টিন দিয়ে। মঞ্চের পাশেই একটা স্মৃতিফলক। সেখানে লেখা আছে, ‘সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নিদর্শন: ১৯৩৪ সনে কার্যকর, মাস্টার দা সূর্যসেনের ফাঁসির মঞ্চ।’

১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের এই ফাঁসির মঞ্চে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামী মাস্টার দা সূর্যসেন ও তাঁর সহযোগী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের স্মৃতিবিজড়িত এই ফাঁসির মঞ্চ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

ইতিহাসবিদেরা জানান, ফাঁসি কার্যকরের পর ব্রিটিশ শাসকেরা মাস্টার দা সূর্যসেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের মৃতদেহের সঙ্গে লোহার টুকরো বেঁধে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়। সে কারণে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মহানায়কদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কেবল টিকে আছে এই ফাঁসির মঞ্চ। কেন্দ্রীয় কারাগারের এই ফাঁসির মঞ্চের পেছনের দেয়ালে বছর খানেক আগে সূর্যসেনের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হলেও তাঁর সহযোগী তারকেশ্বর দস্তিদারের কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই। ভেঙে ফেলা হয়েছে তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত কারাগারের কনডেম সেলটিও। এ অবস্থায় ফাঁসির মঞ্চটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার ও এর পাশে একটি জাদুঘর স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. ছগির মিয়া বলেন, ‘দুই মহানায়কের স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণে কারাগার কর্তৃপক্ষ আন্তরিক রয়েছে। ফাঁসির মঞ্চের পাশে সূর্যসেনের প্রতিকৃতি তৈরি এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। তারকেশ্বর দস্তিদারেরও প্রতিকৃতি তৈরি করা হবে। এ ছাড়া কল্পনা দত্তসহ যেসব বিপ্লবী কারাগারে বন্দী ছিলেন তাঁদের স্মৃতিও সংরক্ষণ করা হবে। এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম কারাগারের কারাধ্যক্ষ রফিকুল কাদের বলেন, সূর্যসেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের নামে কারাগারের দুটি ভবনের নামকরণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে ফাঁসির মঞ্চকে ঘিরে জাদুঘর তৈরি করা যেতে পারে।

ঐতিহাসিক নথি ঘেঁটে দেখা যায়, আলীপুর কারাগার থেকে আসা কয়েদি শিবু রাগাদি জল্লাদ হিসেবে সূর্যসেন ও তারকেশ্বরের ফাঁসি কার্যকর করেন। ফাঁসির পর বিপ্লবীদের লাশ তাঁদের স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়নি। ১৯৩৩ সালে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করা হয়েছিল বিপ্লবীদের। এই ট্রাইব্যুনালের সভাপতি ছিলেন ডব্লিউ ম্যাকশ। রায়বাহাদুর রাজকুমার ঘোষ ও খন্দকার আলী তৈয়ব ট্রাইব্যুনালের সদস্য ছিলেন। রায়ের আদেশে সূর্যসেন ও তারকেশ্বরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও কল্পনা দত্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.