শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধে আওয়ামী লিগেই মতভেদ


NEWSWORLDBD.COM - January 20, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বিরোধীতাকারী ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দল ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’কে নিষিদ্ধের কথা বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লিগ বেশ কয়েক বছর ধরেই বলে আসছে। যদিও এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে; ফলে তারা আর নিজেদের দলীয় নামে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু দলটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও তা নিয়ে এখনও দোলাচলে আওয়ামী লিগের নেতৃত্ব।

হাসিনা সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে নিজেই জানালেন, “জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের বিষয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।” তিনি বলেন, “জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। কেউ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, আবার কেউ আদালতের মাধ্যমে জামায়াত নিষিদ্ধ চাইছেন। তবে বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই এটি নিষিদ্ধ করা হলে দেশ বিদেশে এ নিয়ে কথা আসবে। আদালত যত তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে রায় দেবে আমরা তত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেব।”

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনে নির্বাচন কমিশন। সে সময় ৪২টি দলের সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী জামায়াতে ইসলামীও নিবন্ধিত হয়। জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১ অগাস্ট রায় দেয় হাই কোর্ট। ওই রায় স্থগিতে আবেদন করলে এক সপ্তাহের মধ্যে খারিজ হয়ে যায়। পরে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর নিয়মিত আপিল করে জামায়াত; যার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে অন্যন্য ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের ২৫ জন নেতা ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে একটি রিট আবেদন করে। এ আবেদনের রায়ে, সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

ভারতীয় উপমহাদেশের বিতর্কিত ধর্মীয় রাজনীতিক আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর সূচনা হয়। যদিও তখন দলটির নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর মুসলিম পারিবারিক আইনের বিরোধিতা করায় দলটিকে ১৯৬৪ সালে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবির বিরোধিতা করে জামায়াত। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করতে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্ নামে বিভিন্ন দল গঠন করে জামায়াত ও তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ। তারা সারাদেশে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের মতো যুদ্ধাপরাধ ঘটায়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করলে জামায়াতও এর আওতায় পড়ে। তবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে জামায়াতকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেয়। সেই সময় গোলাম আযম ১৯৭৯ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে দলের আমিরের দায়িত্ব নেন। তবে মানবতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারে একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ‘ক্রিমিনাল দল’ আখ্যায়িত করে রায়ে বলা হয়- দেশের কোনও সংস্থার শীর্ষ পদে স্বাধীনতাবিরোধীদের থাকা উচিত নয়।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.