শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » লিড ১ » ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতার দাবি ভিত্তিহীন’
বিশেষ নিউজ

‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতার দাবি ভিত্তিহীন’


NEWSWORLDBD.COM - January 26, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন বলে যে দাবি করা হয়, তার কোনো ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

শুক্রবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় বাংলার এই অধ্যাপক বলেন, “সাবেক মেজর জেনারেল (পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা) মোহাম্মদ আবদুল মতিন তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, কলকাতায় গড়ের মাঠে এক সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। কিন্তু তিনি যে তারিখের কথা বলেছেন, সেই তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো কলকাতায় ছিলেন না। সুতরাং তার কথা প্রমাণের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়।”

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৬ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আনিসুজ্জামান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধিতা করলে প্রতিষ্ঠার এত কম সময়ের মধ্যে তাকে (রবীন্দ্রনাথ) কেন সম্মানসূচক উপাধি দেওয়া হবে? এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।”

শিল্পকলা একাডেমিতে ‘পাঠক্রমে রবীন্দ্রনাথ: বাংলাদেশ ও ভারতে’ শিরোনামের এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অভ্র বসু। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মঞ্জুলা বসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র চেয়ার অধ্যাপক মহুয়া মুখোপাধ্যায় আলোচনায় অংশ নেন।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বাড়ায় পাঠ্যক্রমে বাংলা ভাষা চর্চা বেহাল হচ্ছে স্বীকার করে আনিসুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই কিন্তু ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে।তা সত্ত্বেও বাংলা ভাষায় পাঠদানের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশেই সমানভাবে চর্চিত হন।”

মঞ্জুলা বসু বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষার গতিপ্রকৃতি আগাগোড়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি প্রথমে যে ভাষায় লিখতে শুরু করেছিলেন, পরে এসে তার সে ভাষা কিন্তু এক ছিল না। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তিনি। সুতরাং বাংলা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ দু দেশের শিক্ষাক্রমেই রবীন্দ্রনাথ পাঠ ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

অধ্যাপক অভ্র বসু তার প্রবন্ধে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ১৯৬৭ সালে সহজপাঠ পড়ানো বাধ্যতামূলক করা হয়। তখন এটা সব স্কুলে পৌঁছে যায়। কিন্তু ১৯৮০ সালে সহজ পাঠ তুলে দেওয়ার কথা ওঠে। তখন বুদ্ধিজীবীদের এমন একটা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল যে একাডেমিক কোনো বিষয় নিয়ে এমন আন্দোলন আর দেখা যায়নি। ফলে সহজ পাঠ বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। শুধু তাই নয় আরও একটি বই চালু করার কথা চলে এলো।”

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.