মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮
বিশেষ নিউজ

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন


NEWSWORLDBD.COM - January 27, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রধানতম মন্দির ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের বেদখলে যাওয়া ১৩ দশমিক ৯০ বিঘা জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মন্দিরের ভক্ত ও অনুরাগীরা। শনিবার সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা মানবশৃঙ্খল ও সমাবেশ করেন। এসময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, ঐহিত্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের বিশ বিঘা দেবোত্তর সম্পত্তির মধ্যে চৌদ্দ বিঘাই বেদখল হয়ে গেছে। এ সম্পত্তিসহ সারাদেশের মঠ, মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত সম্পত্তি উদ্ধারে সরকারের প্রতি দাবী জানান বক্তারা।

বক্তাদের দাবি, ঢাকেশ্বরী দেবীর প্রতিমা যেখানে স্থাপিত সেসব জায়গা ঘিরে ভাওয়াল রাজা শ্রীযুক্ত রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় বাহাদুরের আমলে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জন্য ২০ বিঘা জায়গা সরকারের ২১৬৮নং খাতভুক্ত মহালে দেবোত্তর ভূমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে প্রতাপ চন্দ্র চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল নং ১৩৭৪ মূলে রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় বাহাদুরের তিন ছেলের কাছ থেকে ঢাকেশ্বরী মাতার নিত্য পূজা, সাংবাৎসরিক অন্যান্য পূজা-পার্বণ, সম্পত্তি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজে একটি বেম্যাদি ভোগার্থ দলিল তৈরি করা হয়। দলিলে এও উল্লেখ করা হয় যে, সেবায়েত বা তার উত্তরাধিকাররা শুধুমাত্র ভোগ দখল ছাড়া বেচাবিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।

মানববন্ধনে পূজা উদযাপন পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসুদেব ধর বলেন, এদেশে যখন আনুষ্ঠানিক ভূমি জরিপ শুরু হয় তখন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরো জায়গা দেবোত্তর ভূমি হিসেবে ঢাকাস্থ মৌজায় সি.এস ৩০ থেকে ৪৩ নং দাগে রেকর্ডভুক্ত করা হয় এবং নকশায় স্পষ্ট করে পাকা পিলারসহ সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তান আমলে অনুষ্ঠিত এস.এ জরিপে লালবাগস্থ মৌজায় ৯৪-৯৭, ১০১-১১৭ নং দাগগুলো এস.এ রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে ও পরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ভূমি অধিগ্রহণ (জরুরি) আইন ১৯৪৮, ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের একটি বড় অংশ স্বার্থান্বেষী ভূমিদস্যু, অসাধু কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমির ভুয়া কাগজপত্র রেকর্ডভুক্ত করা হয় বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

বাসুদেব ধর আরও বলেন, মন্দিরের সরু প্রবেশপথের পশ্চিম পাশে দেবোত্তর ভূমি জবরদখল করে অবৈধ বস্তি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মন্দিরের দখল করা প্রায় ১৪ বিঘা জমি ফেরতসহ ভূমি দখলকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবি জানান বক্তারা।

এদিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের যে সকল দেবোত্তর সম্পত্তি ও হিন্দুদের জমি বেদখল করা হয়েছে তা উদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এর আগে শুক্রবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত ‘পরিবার দিবস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘আমরা সবাই জানি ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর্যায়ে ক্রমে বিভিন্নভাবে এই জমিগুলো বেদখল করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কিছু জমিছাড়া অনেক জমি বেদখল হয়েছে। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের যতটুকু সহায়তা করা দরকার তা অবশ্যই আমরা করবো।’

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.