বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

ভুতুড়ে কারাগারে কেমন কাটলো একমাত্র বন্দী খালেদার প্রথম রাত


NEWSWORLDBD.COM - February 9, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রিটিশ আমলে তৈরি পুরান ঢাকায় ১৭ একর আয়তনের যে কারাগারটিতে এক সময় দশ হাজারের মতো বন্দী থাকতেন, সেটি কয়েকমাস আগে পরিত্যক্ত করা হয়। সেখানেই একটি কক্ষে রাখা হয়েছে দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।কারা কর্তৃপক্ষ এখন এটিকে বলছে, ‘বিশেষ কারাগার’।

দুইশত বছরের পুরনো ভুতুড়ে ও নির্জন ভবনের সেই কারাগারে কেমন কেটেছে সত্তুরোর্ধ খালেদার প্রথম রাতটি?

জানার জন্য শুক্রবার বিএনপি নেতাদের কয়েকজন দেখা করার আবেদন করলেও তাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে এসেছেন তার ভাই-বোনসহ পরিবারের চার সদস্য। তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ভেতরে থাকলেও বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়নি প্রশাসনের কর্মীরা। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও তাদের ছেলে অভিক এস্কান্দার শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে কারা ফটকে গিয়ে দেখা করার অনুমতি চান। আধঘণ্টা বসিয়ে রেখে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের চারজনকে ভেতরে গিয়ে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই দুর্নীতির মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মামলার রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পুরান ঢাকার কারাগারটি সরিয়ে বুড়িগঙা নদীর অপর পাশে নিয়ে যাওয়ার পর পুরনো কারাগারকে ‘কারা জাদুঘর ও পার্ক’ করা হলেও এখন সেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আশেপাশে সড়কের প্রবেশমুখগুলোতে কড়াকড়ি চলছে। কারাগারের প্রধান ফটক থেকে দুই পাশে একশ গজ দূরে রয়েছে পুলিশের ব্যারিকেড। শুক্রবার চকবাজার হাজী সেলিম টাওয়ারের সামনের রাস্তা, বেগমবাজার মোড়, প্রধান ফটকের সামনে আবুল হাসনাত রোডে এবং নাজিমউদ্দিন রোডের সামনেও ব্যারিকেড দেখা গেছে। ব্যারিকেডের ভেতরে ঢোকা, ছবি তোলা নিষেধ। আইনৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বৃহস্পতিবার থেকেই বন্ধ করে দেওয়া নাজিমউদ্দিন রোডের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুক্রবারও খোলেনি। মানুষজনকে চলতে হচ্ছে ওই এলাকা এড়িয়ে, বিকল্প পথে। বাসা থেকে খুব দরকার না হলে কেউ বের হচ্ছেন না।

উঁচু লাল দেয়ালঘেরা কারাগারটির সামনে বিশাল ফটক। মূল সেই ফটক দিয়ে ঢোকার পর পার হতে হয় আরও একটি তোরণ। এই পরিসরের মধ্যেই ছিল ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কারাগারের প্রশাসনিক ভবন। ভবনটি আগে সরগরম ছিল কারাগার প্রশাসকদের কর্মচঞ্চলতায়। পরিত্যক্ত কারাগারের নির্জন এই ভবনে বৃহস্পতিবার ঠাঁই হলো বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এদিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেখানে শুক্রবার শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা রয়েছে ও টিভিতে স্যাটেলাইট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কারাগারে কেমন আছেন তিনি- এ প্রশ্নের উত্তর জানতে আগ্রহী গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- সবাই। শুক্রবার সকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কারাগারে থাকা খালেদাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে ‘সাধারণ কয়েদির’ মতো রাখা হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় খালেদাকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়া হয়েছে। তার থাকার কক্ষটি একদম ঝকঝকে করা হয়েছে। কক্ষটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ, ডিসের লাইনের ব্যবস্থা ও আরামদায়ক বিছানা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কক্ষের পাশে রান্নাঘর এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিষ্কার শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই ব্যক্তি আরও জানান, বিএনপি প্রধান কয়েক দিনের জন্য এখানে থাকবেন। এরপর তিনি পুরোনো কারাগারে ডে কেয়ার সেন্টারের কাছে মহিলা ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হতে পারেন। অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বাড়ি ভাড়া করে সাব–জেল ঘোষণা করে তাঁকে রাখা হতে পারে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হলে খালেদা জিয়াকে কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই প্রস্তুতি চলছিল। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, তাঁকে গাজীপুরের কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় নারী কারাগারে রাখা হবে। তবে কাশিমপুর থেকে ঢাকার আদালতে আনা-নেওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর ভাবা হয় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের কথা।

কারা প্রশাসনের ঢাকা বিভাগের উপমহাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জেলকোড অনুসারে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সব সুবিধা খালেদাকে দেওয়া হচ্ছে। নাজিমুদ্দিন রোডে রাখার সিদ্ধান্ত হওয়ার পরই শুরু হয় ঘরগুলো ধোয়ামোছার কাজ। প্রধান ফটকের পর কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক যে কক্ষটিতেই বসতেন, সেই ঘরটিতেই খালেদা জিয়ার থাকার ব্যবস্থা করা হয়। বাথরুমসহ বড় কক্ষে তাঁর থাকার জন্য খাট ও অন্যান্য জিনিসপত্র এক দিন আগেই আনা হয়। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে খালেদা জিয়া এসব সুবিধা পাবেন। সূত্র জানায়, কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দী যেসব সুবিধা পান, তার মধ্যে রয়েছে খাটসহ বিছানা, মশারি, চেয়ার-টেবিল, একটি দৈনিক পত্রিকা ও একজন কাজের মানুষ। এর পাশাপাশি জেলকোড অনুসারে তিনি খাবার পাবেন। সঙ্গে একজন গৃহকর্মী নেওয়ার আবেদন করেন, সেই অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফাতেমা নামের একজন গৃহকর্মী আছেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার ‘জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা’র রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তার ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য ৫ আসামিকে দেওয়া হয় ১০ বছরের সাজা। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.