শনিবার ২১ জুলাই ২০১৮
বিশেষ নিউজ

খালেদাকে কারাগারে পাঠিয়ে এখন অস্বস্তি হাসিনার দলে


NEWSWORLDBD.COM - February 10, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতির মামলা দিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য কারাগারে পাঠিয়ে শেখ হাসিনা সরকার প্রকাশ্যে স্বস্তি প্রকাশ করলেও ভেতরে ভেতরে দলটির নেতাদের মধ্যে অস্বস্তিও রয়েছে।

ঢাকায় বেশ কিছুদিন ধরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে নির্বাচন হয়, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এতে বিএনপির কাছে হেরে যাবে। এই অবস্থায় কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের সহানুভূতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। যদিও দলীয় প্রধানকে কারাগারে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ হতাশ। এর আগে খালেদা জিয়ার শাসনামলেও বাংলাদেশের জনগণ এমনটাই ভাবত। তখন এই ক্ষমতা ছিল খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের হাতে। খালেদার ২০০১-২০০৬ সালের শাসনামলে তারেক সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তারেক বর্তমানে লন্ডনে পলাতক আছেন। বিএনপি যদি রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে আরও পাঁচ বছর দূরে থাকে, তাহলে দলটি দেশজুড়ে তাদের প্রভাব হারাবে। একই সঙ্গে পঙ্গু হয়ে যাবে তাদের আদর্শিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী। এতে শেখ হাসিনা আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হবেন।

তবে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডে সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্বস্তিও রয়েছে কারণ কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের সহানুভূতি বেড়ে যাচ্ছে কি না? তাই রায়ের প্রতিক্রিয়া প্রকাশে এখনই বেশি উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে না আওয়ামী লিগ। তাই রায়ের প্রতিক্রিয়া প্রকাশে এখনই বেশি উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে না আওয়ামী লিগ। গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকে শনিবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। এ সময় তাদের মধ্যে স্বস্তির প্রকাশ পেলেও কেউ কেউ অস্বস্তির কথাও বলেছেন।

লিগের এসব নেতারা বলেছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং একটা বড় দলের প্রধানকে কারাগারে পাঠানোর বিদ্যমান পরিস্থিতির মধ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষ মনে করতে পারে, এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এজন্য দলের উচ্চপর্যায় থেকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পরিচালনা পর্ষদের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর তাঁর প্রতি মানুষের সহানুভূতি বেড়ে যায় কি না, এই ভাবনা আছে আওয়ামী লীগের।

আরও একটি অস্বস্তির বিষয় আছে আওয়ামী লিগের। অর্থ আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হওয়ার পর হাসিনা সরকারের ওপর আরও অনেক দুর্নীতির বিচারের জন্য চাপ বাড়বে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত আলোচনায় হাসিনা সরকারের আর্থিক নানা কেলেঙ্কারি এবং এর সঙ্গে ক্ষমতাসীন কিছু ব্যক্তির জড়িত থাকার বিষয়টি এসেছে, যা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার নামে আগের তদারকি সরকারের আমলে দায়ের হওয়া ১২টি বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির মামলা হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে বাতিল করে দেয়। তবে খালেদার নামের মামলাগুলো বাতিল হয়নি; বরং নতুন করে আরও মামলা করে হাসিনা সরকার। সবমিলিয়ে খালেদা জিয়ার নামে এখন ৩৭টি মামলা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লিগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দুই বেগম নামে পরিচিত-যাঁরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে শীর্ষ দুই ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষমতা এক দশক ধরে ক্ষয়িষ্ণু। ২০০৫ সালের শেষে সরকার থেকে বিদায়ের পর প্রথমে সেনাসমর্থিত তদারকি সরকার এবং পরে আওয়ামী লীগের দুই মেয়াদের সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা লোপ করে আওয়ামী লীগ সরকারের করা সংবিধান সংশোধনের পর বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে। ফলে বর্তমান সংসদে দলটির প্রতিনিধিত্ব নেই। ৭২ বছর বয়সী শারীরিকভাবে অসুস্থ খালেদা জিয়া এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচনে লড়তে পারবেন না হয়তো। আর তাঁর ছেলে ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি তারেক রহমান নির্বাসিত। তাঁর বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি মামলা ঝুলছে। ফলে বিএনপির সামনে এখন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জও বড়। তাত্ত্বিকভাবে খালেদা জিয়ার সামনে দল বাঁচাতে তাই হয়তো কোনো বিকল্প নেই, আইন অনুযায়ী তাঁর দলকে হয় নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, নতুবা নিবন্ধন হারাতে হবে। ঢাকার রাজনীতি সচেতন অংশ মনে করছে, বিএনপি অথবা দলটির অংশবিশেষ রাজনীতির গহ্বরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার চেয়ে সংসদে উপস্থিতিকেই শ্রেয়তর মনে করবে।

আগামী ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা আসার এক সপ্তাহ পরই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় হলো। এই নির্বাচনে পরাজয় বরণের কোনো ইচ্ছা শেখ হাসিনার নেই বলেই সবাই মনে করেন। ২০১৪ সালে তিনি খালেদা জিয়াকে ৯০দিন গৃহবন্দী করে এবং বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টির বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটকে রেখে নির্বাচন করেন শেখ হাসিনা। বিএনপির মিত্র ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, কেননা সংবিধানে বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত। এরপরও ২০১৪ সালের মতো ‘প্রহসনমূলক’ যাতে না মনে হয়, সে জন্য সরকার হয়তো চাইবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিক। নির্বাচন কমিশন বলছে, অর্থপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপির অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের নীরব পৃষ্ঠপোষক ভারতও প্রকাশ্যে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.