সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ ও সাতক্ষীরা: চাঁদা না দেওয়ায় ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজার উপস্থিতিতে এক হিন্দুবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের থানায় না যেতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সুনীল রবিদাসের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মোর্শেদুজ্জামান সেলিমের ভাতিজা অপু ও ভাগ্নে তুহিনের উপস্থিতিতে রবিবার মধ্যরাতে এই হামলা চালানো হয়।
এদিকে ১৫০ বছরের শ্মশান উচ্ছেদ করে ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য মাটি কেটে নিচ্ছে বিএনপি নেতা ওসমান গনি মিন্টু। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের বেতনা নদীর তীরে মুচিপোতা শ্মশানে এ মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ময়মনসিংহে আওয়ামী লিগ নেতাকে চাঁদা না দেওয়ায় এই হামলা হয়েছে দাবি করে গোবিন্দপুর গ্রামের সুনীল রবিদাস বলেন, “এক সপ্তাহ আগে একই গ্রামের ফজর আলীর ছেলে জুয়েল (২৬), আহাম্মদ আলীর ছেলে রুবেল (২৪), কাদির মিয়ার ছেলে বিল্লাল (২৩) তার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মধ্যরাতে ৮-১০ জন যুবক বাড়িতে ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট করে। তারা ঘরের আসবাবপত্রও নিয়ে যায়। ভাংচুর ও লুটপাটের সময় সেলিমের ভাতিজা অপু ও ভাগ্নে তুহিন উপস্থিত ছিলেন।” মধ্যরাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকার সময় হঠাৎ এই হামলা হয় বলে তিনি জানান। সুনীলের স্ত্রী রিনা রানী বলেন, “হঠাৎ ভাংচুরের আওয়াজ শুনে ঘুম ভাঙ্গে। জেগে দেখি কয়েকজন যুবক দেশি অস্ত্রশত্র নিয়ে এসে আমার নিমার্ণাধীন ঘর ভাংচুর করছে। আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও আমার কথা শোনেনি। পরে ঘর ভেঙ্গে মালামাল সাথে করে নিয়ে যায়।”
এখন ভয়ে থানায়ও যেতে পারছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা হুমকি দিচ্ছে থানায় গেলে আরও ক্ষতি করবে।” তবে অপু ও তুহিন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন লিগ নেতা মোর্শেদুজ্জামাম সেলিম। এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি দেলোয়ার আহম্মেদ বলেন, “হামলার ঘটনা শুনেছি। কিন্তু কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের বেতনা নদীর তীরে মুচিপোতা শ্মশান কমিটির সভাপতি বাবুল দাস ও সাধারণ সম্পাদক কার্তিক দাস জানান, দেড়’শ বছর আগে জমিদার আমলে কাহার সম্প্রদায়ের মৃত ব্যক্তির সৎকার হতো এ শ্মশানে। কাহার সম্প্রদায়ের লোকজন বুধহাটায় চলে যাওয়ার পর কুল্যা এলাকার ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষ মারা গেলে পূর্ব পুরুষদের রীতিনীতি অনুযায়ি এখানে সমাধি করা হয়। বর্তমানে এ শ্মশান মুচিপোতা নামে খ্যাত। ১৫০ বছর আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দু’ শতাধিক মৃতদেহ সমাধি করার কারণে বেতনা নদীর চরভরাটি প্রায় পাঁচ বিঘা জমি মহাশ্মশানে পরিণত হয়েছে। ওই জমি জবরদখল করার জন্য ভূমিদস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে জহিরা বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি স্লুইজ গেট সংলগ্ন বাকা নর্দমা পরিবর্তণ করে সোজাসুজি ভাবে বেতনা নদীতে টেনে নদী চরের বেশ কিছু অংশ জুড়ে বাঁধ দিয়ে মাটি কেটে ব্রীজের মাথার হোসেন আলীর ভাটা ও সাতক্ষীরা শহরের রাজারবাগান এলাকার বিএনপি নেতা ওসমান গনি মিণ্টুর কুলতিয়া মোড়ের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। ওসমান গনি মিন্টু তাদের দীর্ঘদিনের শ্মশান থেকে ম্যাশিন দিয়ে মাট ও বালি তুলে চলেছেন। মাটি তোলার একপর্যায়ে মানুষের কঙ্কাল বের হলেও তারা কোনও ভুরুক্ষেপ করছেন না। ফলে তাদের শ্মশান উচ্ছেদ হওয়ার আশাঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুল্ল্যা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল বারী জানান, শ্মশানের জায়গা দখল করে ভাটা মালিক ওসমান গনি মিন্টু মাটি কেটে গভীর করার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি গত ২৮ জানুয়ারি সার্ভেয়র দিয়ে মাপ জরিপ করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শ্মশানের পাশে আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনকে যেভাবে একসনা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে তা আশাশুনির সহকারি ভূমি কমিশনারই বলতে পারবেন। বিএনপি নেতা ওসমান গনি মিন্টু জানান, আনোয়ার হোসেন নামের একজনকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মাটি কাটছেন শ্মশান এলাকায়। আপত্তি ওঠায় কাজ বন্ধ করে দিয়ে এক হাজার ইট দিয়ে শ্মশানের জায়গা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করেছেন। প্রয়োজনে তিনি শ্মশানের গর্ত ভরাট করে দেবন।


