আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অগণিত মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মঙ্গলবার রাত এগারোটার মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। মধ্যরাত থেকেই ফুলে ফুলে ভরে উঠবে শহীদ মিনার। স্মরণ করা হবে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের; যারা নিজের মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর সামরিক জান্তার সামনে নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছেন ১৯৫২ সালেই। ভাষার জন্য রক্তদান সেটাই ছিল প্রথম; এর পর অবশ্য আসামের শিলচরের ১৯৬১র ১৯ মে ভাষার জন্য জীবন দেন ১১ জন।
১৯৫২ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়। এই দিনে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলা ভাষা আন্দোলনকে পৃথিবীর মানুষের গৌরবিত উত্তরাধিকারে রূপান্তরিত করে। ১ মে যেমন আন্তর্জাতিক মে দিবস, যা পালিত হয় পৃথিবীর সব দেশে, ২০০০ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি তেমনি পালিত হচ্ছে পৃথিবীজুড়ে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।
তাই রাত পোহালেই বুধবার প্রথম প্রহর থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় শহীদ এবং বিশ্বপরিমণ্ডলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, শহিদ মিনারের সামনের সড়ক ও দেয়ালে আঁকা হয়েছে বর্ণিল দেয়ালচিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এর সাজসজ্জা করে থাকেন। মঙ্গলবার সারাদিন চলে শেষ মুহূর্তের কাজ। চারদিক ঘেরাও করে রাখা শহীদ মিনারে থাকে আইনশৃঙ্লা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়া নজর।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সব ভাষাভাষীর প্রেরণার উৎস। পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন। দেশের সর্বত্র এদিন প্রভাতফেরি করে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদদের স্মৃতির প্রতি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।



