প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের লাশের ওপর দিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জনগণ সেটা হতে দেবে না। যারা লাশের ওপর পা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের দেশের মাটিতে ঠাঁই হবে না।
বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ১ ঘণ্টা ২১ মিনিটের ভাষণে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা বিষয় স্থান পায়।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। আন্দোলনেও ব্যর্থ হয়েছেন। আন্দোলন করতে হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করতে হয়। তার ডাকে (আন্দোলনে) কেউ সাড়া দেয়নি। তাই তিনি প্রতিশোধ নিচ্ছেন জনগণের ওপর। জনগণকে পুড়িয়ে মারছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনের ডাক দিয়ে মানুষকে রাস্তায় নামাতে পারলেন না। সেই ব্যর্থতার গ্লানি থেকে আক্রোশ শুরু হয়েছে। ব্যর্থতার আক্রোশ থেকে মানুষ পুড়িয়ে মারবেন, এটা কেমন কথা! মানুষের লাশের ওপর দিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জনগণ সেটা হতে দেবে না। যারা লাশের ওপর পা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের দেশের মাটিতে ঠাঁই হবে না’।
সংসদ নেতা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। দেশের মানুষ সেই চক্রান্ত সমর্থন করেনি। নির্বাচন হয়েছে। আমরা আবার ক্ষমতায় এসেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের সংসদ এবং ২০১৪ সালের সংসদের মধ্যে একটি গুণগত পরিবর্তন আছে। তখনকার বিরোধীদলের নেতা খালেদা জিয়া সংসদে আসতেন না। সব মিলিয়ে ৮ কী ৯ দিন সংসদে এসেছিলেন। তবে বক্তব্য বেশি দিতেন। তিনি তো পার্লামেন্টেকে পাত্তাই দিতেন না। বরং যেসব অঙ্গভঙ্গি আর খিস্তি-খেউর করতেন! জাতির কাছে আমাদের মাথা হেট হয়ে যেতো। এখন অন্তত খিস্তি-খেউর আর শুনতে হয় না।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই বর্তমান বিরোধীদলের নেত্রী রওশন এরশাদকে। তিনি নিয়মিত সংসদে আসেন। বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। সরকারের সমালোচনা করেন, পরামর্শ দেন। মানুষ ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসদের বক্তব্য শুনতে পারেন। এখন সেই যন্ত্রণার হাত থেকে বর্তমান বিরোধীদল জাতিকে মুক্তি দিয়েছে। ভাষণের শুরুতেই শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি যখনই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তখনই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। যারা স্বাধীনতার পক্ষে তারাই বারেবারে হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে।




Leave a Reply