মো.জাহিদুল ইসলাম রিপন,কলাপাড়া প্রতিনিধি,৩এপ্রিল ॥ কলাপাড়ায় কৃষক পর্যায়ে পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চ লবণসহিষ্ণু জাতের পাট আবাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে চাকামইয়া ইউনিয়নের কাঠালপাড়ায় ১১ চাষীকে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এক একর জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের পাট আবাদের লক্ষ্য নিয়ে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নে চাষীদের মধ্যে পাটের বীজ ও সার বিতরণ করা হবে। কৃষককে আর্থিক লাভবানের সুযোগের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে সোনালী আঁশ পাট আবাদে সুদুর প্রসারি পরিকল্পনা নিয়ে সরকারিভাবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব চাষীরা পাটের আবাদে সেচ, নিরানি, চাষাবাদসহ সকল সুবিধা পাবেন। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এর পাট ও পাটজাত ফসলে কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তর প্রকল্পের গবেষণা পরীক্ষণ উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত সহিষ্ণু পাটের মাঠ মূল্যায়ন পরীক্ষণ কার্যক্রম হিসাবে মাঠ পর্যায়ে পাটের আবাদে এমন উদ্যোগে কৃষকের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উজ্জল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছ এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে পাটের আবাদে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বৈজ্ঞানিক ড. মাহমুদ আল হোসেন বীজ ও সার বিতরণকালে জানান, পাটের একটি লবণাক্ত সহিষ্ণু জাতের (৯ ডেসি চ/স) উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া আরও উচ্চ লবণাক্ততা সহিষ্ণু (১৪ ডেসি চ/স) চারটি লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। যা এবছর পরীক্ষামূলকভাবে চাষীর জমিতে আবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর লবনাক্ত এলাকায় (সাতক্ষিরা ও পটুয়াখালী) পাটের গবেষণায় অভিজ্ঞ জাত উদ্ভাবক ড. মাহমুদ জানান, খরিপ-১ মৌসূমে এ অঞ্চলে পাট উৎপাদনে সম্ভব এ ধরনের প্রযুক্তি তথা উচ্চ লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত/ লাইন উদ্ভাবন করেছেন। এখন উদ্ভাবিত জাত ও লাইনগুলো কৃষকের পতিত লবণাক্ত জমিতে মাঠ মূল্যায়ন প্রয়োজন। সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতায় কলাপাড়ার গোটা উপকূলে পতিত লবনাক্ত জমি পাট চাষের আওতায় এনে কৃষকের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানোর উজ্জল সম্ভাবনার কথ তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানালেন। যার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কৃষক আব্দুস সত্তার শিকদার জানান, এ উদ্যোগের ফলে পতিত জমিতে বাড়তি ফসল আবাদেও সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেন তিনি।
কলাপাড়ায় উচ্চ লবণসহিষ্ণু জাতের পাটের কৃষক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক আবাদ শুরু ॥
যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন।




Leave a Reply