বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কে হচ্ছেন ছাত্রলীগের কান্ডারী

মাজাহারুল ইসলাম: ক্ষমতাসীনদল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন। কে হচ্ছেন এই সংগঠনটির পরবর্তী কা-ারী ? এনিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সর্বত্র এখন আলোচনা চলছে। আগামী ২৫-২৬ জুলাই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নেতৃত্বে আসছে পরিবর্তন। এরআগে সর্বশেষ ২০১১ সালের ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মাধ্যমে দায়িত্ব পেয়েছিলেন এসএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম। গঠনতন্ত্র অনুসারে কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও এই কমিটির বয়স ইতিমধ্যে প্রায় ৪ বছর হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্নের মুখোমুখী হচ্ছিলেন এই দুই নেতা। নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের বিষয়ে জোর দিয়েছেন। সেজন্যই অবশেষে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের ঘোষণা এলো ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে নেতৃত্ব নির্বাচনে নিয়মিত কেন্দ্রীয় সম্মেলন করে দায়িত্ব হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়। সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এ কাউন্সিল। কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথে শুরু হয়েছে পদ-প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা-নেত্রীদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন তারা।
নিজের পক্ষে সমর্থন আদায়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনেও তাদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। সংগঠনের নীতি নির্ধারকদের সর্মথন আদায়ে লবিং করছেন তারা। সেক্ষেত্রে নীতি-নির্ধারকদের বাসায় ধর্ণা দেয়া থেকে শুরু করে প্রাaধান্য পাচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতিও। সেই সঙ্গে তৃণমুল নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন এসব পদ-প্রত্যাশী। পদ-প্রত্যাশী কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারো অঞ্চল রাজনীতি নেতৃত্ব নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। সারাদেশে ছাত্রলীগকে ছড়িয়ে দিতেই দলটির শীর্ষ চারটি পদ (কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ভাগ করে দেয়া হবে। তবে ছাত্র রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, আনুগত্যশীল, দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী ও নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন কান্ডারীর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কেমন হবে তার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাও কাজ করে যাচ্ছেন নিজেদের আস্থাভাজনদের নতুন কমিটিতে স্থান করে দিতে।
এছাড়াও দলের নতুন নেতৃত্বে নিজ মতাদর্শের ব্যক্তিকে স্থান দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন সাবেক নেতা থেকে শুরু করে মহানগর নেতারাও। এদিকে কয়েকজন সম্ভাব্য পদ-প্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত তিন বছরে যাদেরকে কখনো দেখা যায়নি কিংবা দুঃসময়ে যাদেরকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি তারাও আজকাল তোড়জোড় শুরু করেছেন। মধুর ক্যান্টিনে এদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। আবার অনেকে চুপিচুপি সাবেক নেতাদের বাসায় ধর্ণা দিচ্ছেন। এসব ‘দুধের মাছিরা’ পদ পেলে সংগঠনটির ক্ষতি হবে বলে অভিযোগ করেন তারা। কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, এবারের সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ঢাবি শিক্ষার্থী ছাড়া নেতৃত্ব নির্বাচন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন কিছু নেতা।
বহিরাগত কাউকে নেতৃত্বে আনা হলে দলীয় অর্ন্তদ্বন্দ্ব বাড়বে বলেই তাদের ধারণা। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে দেখা হবে তার নেতৃত্ব গুণ এবং দলের জন্যে ত্যাগ। জ্যেষ্ঠতাও মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিগত বছরগুলোতে যারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। দলের বিপদের সময়েও যারা দিয়ে গেছেন শ্রম। ব্যয় করেছেন যাদের মেধা তাদেরকেই বেছে নেয়া হবে। জ্যেষ্ঠতা এবং দলের জন্যে ত্যাগের দিক থেকে এগিয়ে থাকবেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ ও ক্রীড়া সম্পাদক আবিদ আল হাসান কিংবা সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম। বিগত বছরগুলোতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন এরা।
এছাড়াও পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন-কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক কাজী এনায়েত, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম জুয়েল, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশ ও মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক শাহনেওয়াজ প্রধান শুভ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া কেন্দ্রে আসতে পারেন-উত্তর মহানগর সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানাও। আবার নেতৃত্বে তারুণ্য বিবেচনায় আসতে পারেন- ঢাবি শাখা সহ-সভাপতি আরিফুজ্জামান রোহান, ঢাবি সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দ্রশেখর হালদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আল-আমীন কিংবা সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ সবুজ। এই দৌড়ে আরো আছেন কেন্দ্রীয় উপ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক রয়েল প্রমুখ।

আরও পড়ুন