ঢাকা: নবনির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন পরিচয়ে ফাইল তদবিরে কর্মকর্তাদের কান না দেয়ারও আহ্বান জানান। শনিবার বিকেলে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে ডিএসসিসির মেয়র ও কাউন্সিলরদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে বক্তব্য দেন। খোকন বলেন, ‘আজ আমি খোলামেলা কিছু কথা বললো। আর তা হচ্ছে- কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা দুর্নীতি করে তাদের সংখ্যা কম। এ অল্প সংখ্যক মানুষের জন্য পুরো বদনাম আমাদের ঘাড়ে এসে পড়বে, আমাদের বদনাম হবে তা হতে পারে না।’ মেয়র বলেন, ‘ভুল মেনে নেবো, কিন্তু ভুল বুঝানো মেনে নেবো না। পরিশ্রম করলে বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখব। কিন্তু ফাঁকিবাজি মেনে নেবো না। কেউ আমার আত্মীয়স্বজন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ফাইল নিয়ে তদবিরে আসতে পারে। আমি বলে দিচ্ছে, সেসব ফাইল সোজা ফিরিয়ে দিবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন।’ সাঈদ খোকন নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের ময়লা আবর্জনায় বড় সমস্যা আছে। এটা সমাধান হবে। এজন্য নগরীর ১ লাখ ৪৩ হাজার হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ফ্রি ব্যাগ দেয়া হবে। এতে করে নগরবাসীর ময়লা ভর্তি করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখবে। ফলে তা সুন্দর নগরী গড়তে সহায়ক হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী শবে বরাতের রাতে রাস্তার প্রতিটি লাইট জ্বলবে। এখন জ্বলছে মাত্র ২০ ভাগ লাইট। বাকী ৮০ ভাগ লাইট আগামী দু’একদিনের মধ্যেই লাগানো হবে। যদি কাউন্সিলরা এবিষয়ে আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে তাদের জন্য পুরস্কার আছে।’
রাজধানী ঢাকার প্রশংসা করে সাঈদ খোকন বলেন, ‘পৃথিবীর বহু শহর আছে, যেখানে ঢাকার চেয়ে অনেক সুযোগ-সুবিধা বেশি। কিন্তু আমাদের ঢাকার যে ঐতিহ্য আছে সেটা কোথাও নেই। এখানে প্রতিটি মানুষের মধ্যে একটা আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আছে। আছে রাজনৈতিক ইতিহাসও।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকাকে বাসযোগ্য শহরে পরিণত করবো। আমি শূন্য হাতে দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু আমি ভীত নই। আমাদের সাহস আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলে তিনি আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না।’ এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় মেয়র সংবর্ধনা স্থানে প্রবেশ করলে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্থরের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় অডিটরিয়াম মঞ্চে কাউন্সিলরদের জন্য কোনো স্থান না রেখে মঞ্চের নিচে দর্শক গ্যালারিতে স্থান রাখা হয়। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি সাঈদ খোকন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সবাইকে মঞ্চে ডেকে নেন।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসারী আলী খানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিএসসিসি সচিব খান মো. রেজিউল করিম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থপনা কর্মকর্তা ক্যাপটেন রকিব উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান, সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মিল্লাতুর রহিম মিল্লাত প্রমুখ।



Leave a Reply