বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পানির বদলে কী খাচ্ছি!

water-crisisনিউজ ডেস্ক: রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় এখন যে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে তা ভয়াবহ দুর্গন্ধযুক্ত। ফুটিয়েও গন্ধ দূর করা যাচ্ছে না। আর কোনও কোনও এলাকায় পানিতে ক্লোরিন বা ব্লিচিং জাতীয় পদার্থের পরিমাণ এতোটাই বেশি যে তা মুখে দিলে পানি পানের রুচি চলে যাচ্ছে। ফলে বোতলজাত পানিই ভরসা নগরবাসীর। আর যাদের কেনার ক্ষমতা নেই তারা নোংরা পানি কোনওভাবে পরিচ্ছন্ন করে খাওয়া চেষ্টা করছেন। যদিও তার কোনটাই কাজে আসছে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং পানি স্বাভাবিক নিয়মে না বাড়ার কারণে নিরাপদ পানি পাওয়া আগামীতে আরও বিরল হয়ে যাবে। এখনই বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া রাজধানীর পানি প্রক্রিয়াজাত করেও আর পুরোপুরি নিরাপদ করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সুপেয় পানির নিশ্চয়তা। রাজধানীর মোহম্মদপুরের বাসিন্দা নাঈমা রাহমান। তিনি জানান, গত ১৫ দিন যাবত পানির কল খুললেই বিকট গন্ধ পান। সেই গন্ধযুক্ত পানি ফুটিয়ে কিভাবে পান করবেন সেই চিন্তা করেই কুলাতে পারেননি প্রথম কয়েকদিন। কলের পানিতে গন্ধ কেন খোঁজ নিতে গেলে কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। তবে নাঈমার মনে হয় পানিতে সোয়ারেজের গন্ধ। কিছুদিন কেনা পানি খেয়ে দেখলেন কলের পানির গন্ধটা কমেছে। যদিও ততক্ষণে তাদের পরিবারের সব সদস্যই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক টি এ খান-এর দাবি সরবরাহ করা পানিতে কিছু এলাকায় সমস্যা থাকতে পারে। সেটা ওয়াসার সমস্যা না। লাইনের কোনও সমস্যা থাকলেও সেটা অভিযোগ পেলেই ঠিক করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘পানি কল থেকে সংগ্রহের পর অন্তত ৩০-৪০ মিনিট ফুটিয়ে তারপর পান করতে হবে। যারা অভিযোগ করছেন তাদের বাড়িঘরের ট্যাংক যথাযথ পরিষ্কার নেই বলেই আমার ধারণা।’ যদিও তার কথা ভুল প্রমাণিত হয় ভুক্তভোগীদের একের পর এক অভিযোগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংসের জন্য পানি সঠিক তাপমাত্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ফোটানোর দরকার হয়। কাজীপাড়ার সোলায়মান হক। কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছেন গোসলের পর শরীর চুলকাতে থাকে। পানি মুখে দিয়ে কুলি করতে পারেন না। ওজুও করতে হয় বোতলের কেনা পানি দিয়ে। সোলায়মান সাহেবের ৭ বছরের ছেলে ঋজুর পুরো শরীরে চুলকানি দেখা দিলে তিনি আশেপাশে খোঁজ নিয়ে দেখেন প্রতিবেশীদের প্রত্যেকে হয় চুলকানি নয় পেটের পীড়ায় ভুগছেন। শুরুতে পানির সমস্যা বুঝতে না পারলেও পানি থেকে আসা ক্লোরিনের তীব্র গন্ধ থেকে এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে তাদের খাওয়ার রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। সোলায়মানের অ্যাপার্টমেন্টে প্রতিমাসে ট্যাঙ্কি পরিষ্কার করানো হয়। তিনি পানি সঠিক তাপমাত্রায় ফুটিয়ে পানের পর খেয়েও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছেন, ‘এটা রেয়ার কেস।’

রাজধানীর প্রত্যেকটি এলাকার পানিতে কিছু না কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিজাত এলাকার পানির ক্ষেত্রে এই অভিযোগের পরিমাণ একটু কম। তবে সেখানেও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে কোনও কিছুর মাধ্যমেই সুপেয় পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আর নদী দূষণের ভয়াবহতার কারণে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দিয়েও পানি নিরাপদ করা যাচ্ছে না। পানি বিশেষজ্ঞ এম আশ্রাফ আলী এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, যে পরিমাণ পানি ভূগর্ভ থেকে খালি হয় সেটা প্রাকৃতিক নিয়মে পূরণের কথা থাকলেও সেটা না হওয়ায় মূল সমস্যা। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত নলকূপ বসানোর কারণে ভূগর্ভস্থ পানি কেবল কমছে, বাড়ছে না। তিনি বলেন, পানি যখন ফুটিয়েও নিরাপদ করা যাচ্ছে না তখন নগরবাসী বিকল্প হিসেবে উন্নতমানের পানি শোধন যন্ত্র কেনার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে পানি শোধনযন্ত্রও পানির গন্ধ দূর করতে পারছে না। এজন্য পানির প্রধান উৎস পরিশোধনের কোনও বিকল্প নেই বলে মত দেন তিনি।

সৌজন্য…বাংলাট্রিভিউন

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *