স্পোর্টস ডেস্ক : রক্তচক্ষু দিয়ে শাসন করা রিয়াজের ওপরই ঝাল মিটিয়েছেন সাকিবরা। শেন ওয়াটসনের সঙ্গে বাগযুদ্ধে নেমে তারা জয়ী হয়েছিলেন। এরপর থেকেই ওয়াহাব রিয়াজের একটা ভাব। বাংলাদেশে আসার পর তার ভাবখানা এমন ছিল, তোরা বলিস কত জল!
কিন্তু শেষমেশ জলের তল খুঁজে পাননি সেই রিয়াজই। খুলনা টেস্টে মেজাজ হারিয়ে সাকিব আল হাসানের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন রিয়াজ। সাকিব কিন্তু চুপটি মেরে বসে থাকেননি। তিনিও পাল্টা ধমকে দিয়েছেন। শুধু মুখের কথার লড়াইয়ে হারেন নিরিয়াজ।
পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে রিয়াজের ওপরই বেশি ঝাল মিটিয়েছেন টাইগাররা। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট সিরিজ মিলিয়ে ছয় ম্যাচের আট ইনিংসে পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে দিয়েছেন সর্বোচ্চ ৪০৩ রান।
অবশ্য মোট ১২ উইকেটও পেয়েছেন। তবে দেশে ফিরে বহুদিন এ সফরের দিকে তাকিয়ে রিয়াজের শুধু মনে পড়বে সাকিবের সেই পাল্টা জবাব দেয়ারকেথাটা। জবাবটা যে সাকিব শুধু মুখে দেননি, দিয়েছেন ব্যাটেও।
ওয়ানডে সিরিজের শুরু থেকেই একের পর এক বাজে আপিল করে গিয়েছিলেন রিয়াজ। মাঝেমধ্যে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকেও সম্মান না জানিয়ে বিতর্কিত আচরণ করেছিলেন। পুরো সফরে ৬ ম্যাচে ওয়াহাব রিয়াজের বলে ৫৬টি চার ও ১টি ছয় মেরেছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা।
দুই দলের আর কোনো বোলার এত বাউন্ডারি হজম করেনি। রিয়াজের বলে সর্বোচ্চ ১৩টি চার মারেন তামিম, ১২টি চার সাকিবের। ৬ ম্যাচে শুধু ওয়াহাব রিয়াজের বলেই তামিম করেছেন ৮৫ রান, সাকিব করেছেন ৬৪ রান।
প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নেমেই রিয়াজের দ্বিতীয় বলে ছক্কা আর তৃতীয় বলে চার মারেন সাব্বির। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এক ওভারে টানা তিন বলে তিন চার মারেন তামিম। শেষ দুই ওয়ানডেতে ওয়াহাব ১৪ ওভারে ৬৬ রান দিলেও কোনো উইকেট নিতে পারেননি।
একমাত্র টোয়েন্টি ম্যাচেও নিস্তার পাননি। ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান। তার বলেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা মেরেছেন ৭টি চার। টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়াহাবের চেয়ে বেশি রান এবং বেশি বাউন্ডারি রান কোনো বোলার দেননি।
টোয়েন্টি ম্যাচে জিততে যখন ৫ ওভারে ১৯ রান দরকার ছিল, রিয়াজের এক ওভারেই তিনটি চার মেরে ১৫ রান তোলেন সাকিব-সাব্বির। ২২ বল হাতে রেখে ম্যাচটি জেতে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজেও ব্যাটসম্যানদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
খুলনা টেস্টে বাচাঁ-মরার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে রিয়াজের প্রথম ওভারেই দুইটি চার মেরে আক্রমণ শুরু করেন তামিম ইকবাল। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেছিলেন, অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স।
পরদিন তামিম-ইমরুল ৩১২ রানের রেকর্ড জুটি গড়লেন। ওই ইনিংসে ওয়াহাব রিয়াজ ২০ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। খুলনা টেস্টের শেষদিনের শেষ সেশনেই তর্কে জড়ান সাকিবের সঙ্গে। ম্যাচ শেষে আম্পায়ার দুজনকে জরিমানা করলেও ভেতরে রাগটা যে পুষিয়ে রেখেছিলেন সাকিব।
শেষ টেস্টের তৃতীয়দিন সকালে ৮ উইকেট পড়ে গেলে মোহাম্মদ শহীদকে নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান সাকিব। রিয়াজকে পাড়ার বোলার বানিয়ে তার শেষ ১৬ বলে ৮টি চার মারেন সাকিব। আগের দিন বিকেলেও ওয়াহাবের এক ওভারে তিনটি চার মেরেছিলেন মুশফিক।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয়দিন শেষ বিকেলে মমিনুল রিয়াজের খেলা প্রথম ওভারেই টানা তিন বলে মারেন তিনটি চার। টাইগারদের কৗশলটাই ছিল এমন- রিয়াজকে সামনে পেলেই টানা কয়েকটা বাউন্ডারি, যেন পাল্টা চেপে বসার সুযোগ না পান তিনি। বাংলাদেশে এবারের সফরটা রিয়াজের অবশ্যই মনে থাকবে, তার জন্য ছিল শিক্ষা সফর!



Leave a Reply