বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এ জ্বালা সইতে পারছি না : মৃত্যুর আগে স্কুল ছাত্রীর চিরকুট

Madaripur-Harazmen-BM01নিউজ ডেস্ক : মাদারীপুর সদরের চরমুগরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আকতার। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার সময় শাওন নামের এক বখাটের অত্যাচারে অতিষ্ট সথী। তবুও এর কোন প্রতিকার নেই। এব্যাপারে বাবা-মাকে জানিয়েও কাজ হয়নি। তারা এরর কোন সমাধানের পথ দিতে পারেনি। ওই বখটের পরিবারে নালিশ করেও এর কোন সুরাহা হয়নি। অগত্যা সাথী নিজেই এর সমাধান খুঁজে বের করেছেন। কিন্তু তার সেই সমাধানটা যে এমনভাবে সবাইকে কাঁদিয়ে যাবে তা কেউ কল্পনা করেনি। সবার অজান্তে কীটনাশক খেয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন সাথী।

তার শেষ কথা ছিল:::

–মা তোমাদের গত দু’বছর ধরে বলে আসছি। কিন্তু তোমরা ওকে (বখাটে শাওন) থামাতে পারলে না। আমি আর এ জ্বালাতন সহ্য করতে পারছি না। আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও।–

একথাগুলো শনিবার রাতে মাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন।

এসব বলার কিছুক্ষণ পরেই সবার অজান্তে কীটনাশক পান করে সাথী। টের পেয়ে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত ৮টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে। বখাটে শাওন এ পুটিয়া গ্রামেরই মোতালেব হাওলাদারের ছেলে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ জানান, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে শাওনের পারিবারের দাবি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সাথী আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রমতে, বছর দুয়েক আগে থেকেই স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে উত্ত্যক্ত করতো শাওন। এনিয়ে শাওনের পারিবারের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়। এলাকাবাসীও চেষ্টা করেছে তাকে ফেরাতে। কিন্তু শাওন দিন দিন ভয়ঙ্কর বেপরোয়া হয়ে ওঠে।ঘটনার দিন বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে আবারো সাথীর পথরোধ করে শাওন। এতে ক্ষিপ্ত হয় সাথী।
পরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

সাথীর বাবা চানমিয়া সিপাই বলেন, ‘শাওন আমার মেয়েকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করতো। এ নিয়ে তার পারিবারের কাছেও কয়েক বার নালিশ করেছি। কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। তাই মেয়ে আমার লাঞ্ছনা সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

রোববার দুপুরে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম রাজিব। সূত্র ইন্টারনেট।

আরও পড়ুন