বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে যাত্রীবাহী বাসে গার্মেন্ট কর্মীকে গণধর্ষণ

গণধর্ষণসোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও চরকামালদী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে সোমবার রাতে এক গার্মেন্ট কর্মী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভোররাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এলাকাবাসী বাস হেলপার রুবেলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ধর্ষিতার বরাত দিয়ে সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খন্দকার আমিনুল ইসলাম জানান, ওই গার্মেন্ট কর্মী আড়াইহাজার উপজেলার ফকির গার্মেন্টে কাজ করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজ শেষে কয়েকজন মহিলা শ্রমিকসহ কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাড়া করা একটি বাসে সোনারগাঁর ধন্দী বাজারে যাচ্ছিলেন তিনি। বাসটির চালক ছিল চান্দুু মিয়া। পথে অন্য সব যাত্রীরা নেমে গেলে তাকে একা পেয়ে ড্রাইভার চান্দু মিয়া, হেলপার রুবেলসহ ৩-৪ জন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাস থেকে নামিয়ে চরকামালদী বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে গিয়ে আবারও ধর্ষণ করে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই গার্মেন্ট কর্মী। তখন মানুষ নামের ওই নরপশুরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যায়। ভোররাতে তার জ্ঞান ফিরলে পরিবারের লোকজনকে ফোনে বিষয়টি জানান তিনি। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, আগে থেকেই ড্রাইভার-হেলপার মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণের পাঁয়তারা করেছিল। মেয়েটি বসেছিল ড্রাইভারের কাছাকাছি। চতুর ড্রাইভার ধন্দীবাজারের কাছাকাছি আসতেই তার সঙ্গে নানা প্রসঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে। ফলে মেয়েটি ধন্দীবাজার নামতে ভুলে যান। তাকে কৌশলে নিয়ে যাওয়া হয় ধন্দী বাজার ছাড়িয়ে অনেক দূরে সোনারগাঁ চরকামালদী এলাকায়।
মঙ্গলবার দুপুরে ধর্ষিতার পরিবার ও এলাকাবাসী বিষয়টি সোনারগাঁ থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ধন্দী এলাকা থেকে এলাকাবাসী বাসের হেলপার রুবেলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। ধর্ষক রুবেল আড়াইহাজার উপজেলার গাবরপুর এলাকার মৃত জনু মিয়ার ছেলে। সে ধন্দী এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করে। ওই গার্মেন্ট কর্মীর পরিবারের লোকজন জানায়, তাদেরকে মামলা না করতে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাছাড়া মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পারে এই আশংকা থেকেও তারা মামলা করতে চাচ্ছেন না। তবে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কামরুল ইসলাম জানান, তারা ইতিমধ্যে এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছেন। বাকিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাদেরকে দিয়ে মামলা করানোর চেষ্টা চলছে। তারা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

আরও পড়ুন