বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাঁচানো গেল না ছোট্ট যুবরাজকে

নিউজ ডেস্ক: বাঁচানো গেল না যুবরাজকে। ১০ দিন বয়সী এই ছোট্ট শিশুটি আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। জন্ম দেওয়ার পরদিনই তার মা পারভিন বেগম অন্যের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তাকে, কারণ ছিল অভাব অনটন। যুবরাজ মা ও সবাইকে সব ধরনের দায় থেকে মুক্তি দিয়েছে।news_img (1) copy
যুবরাজকে পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশি ঘটনা হওয়ায় হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে ৭ মে যুবরাজকে পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত আজিমপুরের ছোটমনি নিবাসে। সেখানকার এই তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তারই নবজাতকের ‘যুবরাজ’ নামটি দেন। গত তিন দিন আগে যুবরাজের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবার ভর্তি করা হয়েছিল।

সেলিনা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘ওর নাম রাখলাম যুবরাজ। কিন্তু এ নামে তো ওকে ডাকতেই পারলাম না। তার আগেই চলে গেল।’ তিনি বলেন, ‘ওকে যখন প্রথম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখনো শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল। ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। ছোটমনি নিবাসে আনার পর দুই দিন কৌটার গুঁড়ো দুধ খাওয়ার পর থেকেই ওর পেটে সমস্যা দেখা দেয়। অনেক চেষ্টা করার পরও বাঁচানো গেল না।’গত সোমবার রাজধানীর পল্টনে জনতা শিশু চোর সন্দেহে গুলজানকে (৫৫) ওই নবজাতকসহ পুলিশের কাছে তুলে দেয়। এরপর বেরিয়ে আসে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরদিন নবজাতকের মায়ের কোলছাড়া হওয়ার কাহিনি।
পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গুলজান মিনিবাসে করে যাওয়ার সময় শিশুটি খুব কাঁদছিল। অন্য যাত্রীরা জানতে চান, এত ছোট শিশু কার। গুলজান শিশুটি তাঁর বলে জানালে যাত্রীদের সন্দেহ হয়।

তাঁরা বিষয়টি নিয়‌ে হইচই শুরু করলে চালক পল্টন মোড়ে বাস থামিয়ে দেন। যাত্রীরা গুলজানকে নামিয়‌ে এনে কিছু মারধরও করেন। এরপর পুলিশ গিয়‌ে গুলজানকে আটক করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলজান জানান, তিনি ধলপুরের ১৪ নম্বর বস্তিতে থাকেন। তাঁর প্রতিবেশী আক্তার মিয়া ও ফাতেমা দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়েছেন তিনি। ফাতেমা একটি বেসরকারি সংস্থার ডেলিভারি সেন্টারের কর্মী।

গুলজান জানান, তাঁর ভাই ওদুদ নিঃসন্তান, ভাই-ভাবি ফরিদপুরের নগরকান্দায় থাকেন। ভাইয়ের ইচ্ছা শিশু দত্তক নেবেন। ভাইয়ের ইচ্ছার কথা তিনি ফাতেমাকে জানিয়েছিলেন। রোববার ফাতেমা দত্তক নেওয়ার মতো একটি শিশুর জন্মের খবর দিলে তিনি রাজি হন। কথা হয়েছিল শিশুটির মাকে ‘খুশি হয়‌ে’ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। গুলজান দুপুরে শিশুটিকে নিয়‌ে ফরিদপুর যাওয়ার পথে ধরা পড়েন।

গত ৫ মে মঙ্গলবার প্রথম আলোর দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় যুবরাজকে নিয়ে ‘জন্মের পরদিনই মায়ের কোলছাড়া শিশু’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার পারভিন যুবরাজকে জন্ম দেন। পারভিন জানান, তিনি প্লাস্টিকের কারখানায় কাজ করতেন। স্বামী হেলাল বোতল তৈরির কারখানায় কাজ করেন। তাঁদের আগের দুটি সন্তান আছে। সাত-আট মাস ধরে হেলাল তাঁদের খোঁজ নেন না। আয় না থাকায় গর্ভকালীন সময়টা খুব কষ্টে কেটেছে। তখনই সিদ্ধান্ত নেন, পেটের শিশুটিকে দত্তক দেবেন। সে অনুযায়ী শিশুটি তিনি গুলজানকে দেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার রাজধানীর পল্টনে জনতা শিশু চোর সন্দেহে গুলজানকে (৫৫) ওই নবজাতকসহ পুলিশের কাছে তুলে দেয়। এরপর বেরিয়ে আসে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরদিন নবজাতকের মায়ের কোলছাড়া হওয়ার কাহিনি।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গুলজান মিনিবাসে করে যাওয়ার সময় শিশুটি খুব কাঁদছিল। অন্য যাত্রীরা জানতে চান, এত ছোট শিশু কার। গুলজান শিশুটি তাঁর বলে জানালে যাত্রীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বিষয়টি নিয়‌ে হইচই শুরু করলে চালক পল্টন মোড়ে বাস থামিয়ে দেন। যাত্রীরা গুলজানকে নামিয়‌ে এনে কিছু মারধরও করেন। এরপর পুলিশ গিয়‌ে গুলজানকে আটক করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলজান জানান, তিনি ধলপুরের ১৪ নম্বর বস্তিতে থাকেন। তাঁর প্রতিবেশী আক্তার মিয়া ও ফাতেমা দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়েছেন তিনি। ফাতেমা একটি বেসরকারি সংস্থার ডেলিভারি সেন্টারের কর্মী।

গুলজান জানান, তাঁর ভাই ওদুদ নিঃসন্তান, ভাই-ভাবি ফরিদপুরের নগরকান্দায় থাকেন। ভাইয়ের ইচ্ছা শিশু দত্তক নেবেন। ভাইয়ের ইচ্ছার কথা তিনি ফাতেমাকে জানিয়েছিলেন। রোববার ফাতেমা দত্তক নেওয়ার মতো একটি শিশুর জন্মের খবর দিলে তিনি রাজি হন। কথা হয়েছিল শিশুটির মাকে ‘খুশি হয়‌ে’ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। গুলজান দুপুরে শিশুটিকে নিয়‌ে ফরিদপুর যাওয়ার পথে ধরা পড়েন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *