মানবপাচার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসনের নামে মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করে দুই দেশ।
রোববার মালয়েশিয়ায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে সম্মত হয় উভয় দেশ। এ ছাড়া বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩১টি ইস্যু-সংবলিত সম্মতিপত্রে সই করে উভয় দেশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের প্রাণ হারানোর ঘটনায় পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় তোলপাড় চলছে। বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এরই মধ্যে কঠিন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। কিন্তু প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়া উপকূলে দফায় দফায় অভিবাসী উদ্ধারের খবর আসছে।
মানবপাচার রোধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান করেছে থাইল্যান্ড সরকার। আগামী ২৯ মে দেশটির রাজধানী ব্যাংককে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। উপস্থিত থাকবেন অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের প্রতিনিধিরাও।
মালিয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশের কোতা কিনাবালু শহরে রোববার দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফাহ আমান। বৈঠকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে অংশ নিতে দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন মাহমুদ আলী।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকে সে দেশে আরো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন সেক্টর খুঁজে বের করার ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে মালয়েশিয়ায় একটি শহীদ মিনার নির্মাণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
যৌথ কমিশনের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করেন। এ সময় আসিয়ান ডায়ালগের অংশীদার হওয়ার আগ্রহ জানিয়ে একটি চিঠি মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন মাহমুদ আলী। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থনের নিশ্চয়তা দেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফাহ আমান। এ ছাড়া বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিশ্রুত সারওয়াক প্রদেশে বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর জন্য চাহিদাপত্রের বিষয়, ভিসা অব্যাহতির বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।




Leave a Reply