বর্ষা মৌসুমের আগেই ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে বোরো ধান ভাসছে শিবনদীর পানিতে। এর ফলে কাঁদছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার ধান চাষিরা।
বেশ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শিবনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। বাকি ধান শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাষিরা লোকসানের কবলে পড়েছেন। এ কারণে কৃষকের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তানোরে ১৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুষ্ক মৌসুমে শিবনদীর বুকে রোপিত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বোরো ধান কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ডুবে গেছে।
হঠাৎ প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে বিপর্যয় ঘটেছে বোরো ধানের। উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া থেকে চৌবাড়িয়া মালশিরা পর্যন্ত বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বোরো চাষিরা জানান, বোরো ধান চাষাবাদের জন্য কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে ধানের বীজ বোপণ করতে হয়। এসব বীজ গজানোর দুই মাসের মধ্যে উঠিয়ে জমিতে রোপণ করে থাকেন চাষিরা।
পাকা ধান তৈরি করতে একটি শিশুর মতো লালন-পালন করতে হয়। এখন এসব পাকা ধান কাটার সময়ে বৃষ্টি কৃষকের সব স্বপ্ন ম্লান করে দিয়েছে। তবে বোরো ধান নিয়ে কৃষকের এমন আহাজারি শুরু হলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে উদাসীন। তাদেও কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায় নি বলে কৃষকের অভিযোগ।
উপজেলার গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন জানান, গত বছর ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেন তিনি। প্রতিবিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ মণ (২৮ কেজিতে কাচির মণ) ধান হয়েছিল। কিন্তু এবার প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে এবং অসময়ে ধান কাটার কারণে ফলন অর্ধেকেও পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, শিবনদীতে আমার ৩ বিঘা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চাঁপাইনবাঞ্জ ও পাবনা জেলা থেকে বোরো ধান টাকার জন্য এলাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক আসে। বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শ্রমিক না আশায় ধান কাটা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন হাজারো চাষি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ফলনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।




Leave a Reply