রাজশাহীর তানোরের গোল্লা পাড়া এলাকার কৃষক নূর মোহাম্মদ। চলতি বোরো মৌসুমে এমএন-১০৪ নামে নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। ধানটি প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়ার গেছে ২৮ দশমিক ৮৭ মণ (শুকনো, ৪০ কেজি)। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত শেষ ব্রি-৬৯ জাতের ধানের ফলনের চেয়েও বিঘায় ৪ মণ বেশি। নুর মোহাম্মদের ধান কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলার মাঠে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত শেষ জাত ব্রি-৬৯ ও তানোরের কৃষক নূর মোহাম্মদ উদ্ভাবিত এনএম-১০৪ ধান কাটা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উদ্ভাবিত ধান কর্তন করার সময় উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার। উদ্ভাবিত ধান কর্তন ও মাড়াই শেষে ব্রি-৬৯ বিঘা প্রতি ফলন পাওয়া যায় শুকনা ওজনে ২৫ মণ (৪০ কেজি)। আর তানোরের কৃষক নূর মোহাম্মদের উদ্ভাবিত এনএম-১০৪ বিঘায় ২৮ দশমিক ৮৭ মণ (৪০ কেজি) ধান পাওয়া যায়।
কৃষক নূর মোহাম্মদ দাবি জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি-৬৯ জাতের ধানের চেয়ে তার উদ্ভাবিত ধানের ফলনই শুধু বেশি নয়। এনএম-১০৪ ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। সহজে হেলে পড়ে না। রোগ বালাই ও পোড়া-মাকড় অন্য জাতের তুলনায় কম। ধানের জীবন কাল ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন।
নিজের গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জাতের ধানের শঙ্করায়নের মধ্যেমে তিনি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করে থাকেন। এনএম-১০৪ জাতের ধানটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষাধীন আছে। সেখানে ভালো ফলাফল আসলে ধানটি বাজারজাত করার বিষয়ে তারা চিন্তাভাবনা করবে।
ধানের নাম এনএম-১০৪ রাখার বিষয়ে তিনি জানান, এটি তার নিজস্ব কোড। এন তে নূর ও এম-তে মোহাম্মদ বুঝানো হয়েছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, এনএম-১০৪ জাতের ধান কাটার সময় তিনি নিজেই উপস্থিত ছিলেন। ধানের গাছ ও ফলন দেখে বেশ ভালো মনে হয়েছে। ধানটি বাজারজাত করা হবে কি না তা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।



Leave a Reply