ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ঢাকা সফরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা ও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য অগ্রবর্তী দল হিসেবে ঢাকা এসেছে নয়াদিল্লির প্রটোকল কর্মকর্তারা। সোমবার ১৮ মে ঢাকায় আসা প্রতিনিধিরা দুই দিন অবস্থান করে সকল বিষয় খতিয়ে দেখছেন। এছাড়া সফরের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকায় এসেছেন ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। আবার আগামী শুক্রবার নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এদিকে মোদির সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যস্ততার শেষ নেই। গতকাল বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিবদের নিয়ে হয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক।
সূত্র মতে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রটোকল শাখার প্রধানের নেত্বত্বে গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা এসে পৌছায় ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। দুপুরে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার প্রধান আসাদ আলম সিয়াম ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় ওই কর্মকর্তারা। বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বৈঠকের সফরের প্রস্তুতি নিয়ে তাদের আলোচনা হয়। তারা পরে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেন। ঢাকার বাইরেও একাধিক স্থান পরিদর্শন করার কথা আছে তাদের। সে হিসেবে নরেন্দ্র মোদি সফরে এসে ঢাকার বাইরেও যেতে পারেন বলে মনে করছে সূত্রগুলো।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে গতকাল সোমবার বিকেলে নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রস্তুতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। উপস্থিতি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাণিজ্য সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, নৌ পরিবহন সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেওয়া বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। নয়াদিল্লি সফরে যাওয়ার আগে এসব বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে নরেন্দ্র মোদির সফরের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব ধরনের প্রস্তুতির কাজই চলছে। প্রাথমিকভাবে সফরের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ ও ৭ জুন। সেই হিসেবেই চলছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই দশের বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য কাজ চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নরেন্দ্র মোদির সফরে সই হতে যাওয়া সম্ভাব্য চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে আগামী ২২ মে শুক্রবার ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর। তার আগে সড়ক অবকাঠামো সংক্রান্ত নানা বিষয়, দু’দেশের মধ্যে দু’টি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে ইতিমধ্যেই ভারত সফরে আছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সূত্র জানায়, ঢাকা সফরে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক ছাড়াও একান্তে কিছু সময় বৈঠক করবেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে হবে সৌজন্য সাক্ষাত। তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে কি না- তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কোনো পক্ষই। যদিও খালেদা জিয়া বর্তমানে সরকার বা সংসদের কোনো পদে না থাকায় ‘প্রটোকল’ না পাওয়ায় বাংলাদেশ বিষয়টি এড়িয়ে চলছে। মোদি-খালেদা সাক্ষাতের বিষয়টি তাই এখন নির্ভর করছে ভারতের ইচ্ছার ওপর।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি/



Leave a Reply