মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

শিলংয়ে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা

ভ্রাম্যমান বিশেষ প্রতিনিধি, শিলং থেকে:

shillong+civil+hospitalবিএনপির যুগ্ম মহসচিব সালাহ উদ্দিন প্রায় দুই মাস ‘নিখোঁজের’ পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তার খোঁজ পাওয়ার পর গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে সংবাদ সংগ্রহে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এরপর শিলংয়ে ছুটে যান বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশনের সংবাদকর্মীরা।

১১ মে সালাহ উদ্দিনের আটকের পর ১২ মে প্রথমে সেখানে যান কলকাতায় অবস্থানরত ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির গোলাম কিবরিয়া ও বিবিসি বাংলার কলকাতা প্রতিনিধি অমিতাভ ভট্টশালী। ১৩ তারিখে শিলংয়ে যান এটিএন নিউজের ইমরান হোসাইন সুমন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিলেট অফিসের ফটোগ্রাফার নাজমুল কবির পাভেল ও সময় টিভির কলকাতা প্রতিনিধি সুব্রত আচার্য। ১৪ মে শিলংয়ে পৌঁছেন প্রথম আলোর রাহীদ এজাজ, এসএ টিভির সালাউদ্দিন মাহমুদ মিম, চ্যানেল আইয়ের পান্থ রহমান ও মানব জমিনের দীন মোহাম্মাদ। ১৫ তারিখে শিলংয়ে যান আমাদের সময় ডটকমের মাছুম বিল্লাহ, যমুনা টিভির মাহফুজ মিশু, ভিডিওগ্রাফার আনোয়ার হোসাইন সবুজ ও একাত্তর টিভির ফারহানা রহমান।

শিলংয়ে অবস্থানরত বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কমের কাছে। সালাহ উদ্দিনের খবর সংগ্রহের জন্য আসা এসব গণমাধ্যম কর্মীরা নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এর মধ্যে সবাই যে সমস্যাটা ফেস করছেন সেটা হলো-ইন্টারনেট সংযোগ। পাহাড়ে ঘেরা শহর শিলংয়ে ইন্টানেটের যে এতো দুরাবস্থা তা কেউ আগে থেকে জানতো না। এখানে এসে সবাই খবর পাঠাতে যেয়ে ইন্টারনেট বিড়ম্বনায় পড়েন। কেউ আবার শিলংয়ে এসে দুদিন নিউজই পাঠাতে পারেননি।

রাহীদ এজাজ: শিলংয়ে এসে আমাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে ইন্টারনেট নিয়ে। প্রথমদিন খবর পাঠাতে অনেক প্রবলেম হয়েছে। প্রতিদিনের স্টোরি পাঠাতে গিয়ে মনে হয়েছে কোন অজোঁপাড়া গাঁয়ে আছি। মনে হয়েছে ২০/২৫ বছর আগের যুগে ফিরে গেছি। তবে এখনার পুলিশ-সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা সবাই সহযোগিতা করেছে। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

মাহফুজ মিশু: লাইভ করার জন্য ডিএমএনজি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু নেটের দুর্দশার কারণে সম্ভব হয়নি। তবে এখানে এসে সবচেয়ে সফলতা সালাহ উদ্দিনকে দেখতে পারা। চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের কোন হদিস নেই। কিন্তু সালাহ উদ্দিনকে দেখতে পেলাম। দেখে মনে হল তিনি অনেকটা সুস্থ। তার মানসিক অবস্থাও অনেকটা সবল। সালাহ উদ্দিনের সংবাদ সংগ্রহে এখানকার গণমাধ্যমের উপস্থিতি আশা করেছিলাম। কিন্তু তারা অনুপস্থিত। একানকার গণমাধ্যমের অবস্থাও তেমনটা ভাল মনে হয়নি। এ রাজ্যে কোন টিভি চ্যানেল নেই। তবে শিলংয়ের মানুষরা সিস্টেম মেনে চলে। ১০টাকায় টেক্সিক্যাবে চলাচল করা যায়। এখানে এতো বৃষ্টি হয় তারপরেও জলাবদ্ধতা নেই। এটা আমার ভাল লেগেছে।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ মিম: শিলংয়ে এসে প্রথম ৩৬ ঘন্টা ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। পরে আমার ল্যাপটপে ভাইরাস ঢুকে ক্রাস করে এবং পরে তা ক্যামেরাতেও আক্রমণ করে। এর মধ্যেও কাজ করছে হচ্ছে। প্রতি ঘন্টায় সালাহ উদ্দিনের আপডেট পাঠাতে হচ্ছে। আমার মনে হয়েছে। শিলংয়ের মানুষ আমাদের দেশের মানুষের চেয়ে অনেক বোকা। এ কারণে তারা অনেক ভাল মানুষও। এখানকার অনেক মানুষই আছে যারা কখনো কলকাতা-দিল্লি যায়নি। তাদের দেশের কেন্দ্রীয় রাজনীতি নিয়ে তারা অতটা ওয়াকিবহাল নয়।

ইমরান হোসাইন সুমন: শিলংয়ে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের এতো প্রবলেম হবে বুঝতে পারিনি। ফুটেজ পাঠাতে প্রতিবারই ঘাম ঝড়ছে। শহরটা ঘুরে দেখা হয়নি।

পান্থ রহমান: সবার মতো আমারও একই প্রবলেম-ইন্টারনেট। আর কিছু না।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম/

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *