বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা সরাসরি বাস চালু হচ্ছে

কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। গত সোমবার দিল্লিতে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরেই সম্ভবত এ ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়ে যাবে।

জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের ওইদিন দিল্লিতে দীর্ঘ বৈঠক করেন ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির সঙ্গে। সেই বৈঠকের পরই তিনি জানান, বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালুতে অবশেষে সবুজ সংকেত পেতে চলেছে ভারত। কলকাতা-ঢাকা বাস চালু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। আর আগরতলা-ঢাকা বাস চালু হয় ২০০৩ সালে। দুটো রুটেই যাত্রীদের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস চালু হতে যাচ্ছে।

15369423144_6b63da6f9e_bবস্তুত ঢাকায় বাস বদল না করেই যাতে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে ত্রিপুরার আগরতলায় যাওয়া যায়, এটি ভারতের দুই রাজ্যেরই দীর্ঘদিনের দাবি। ভারতের মূল ভূখন্ড দিয়ে সড়কপথে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে গেলে প্রায় তিন দিনের ধাক্কা। অথচ ঢাকা হয়ে যেতে পারলে ভ্রমণের সময় নেমে আসবে চব্বিশ ঘণ্টা। কিন্তু এর জন্য বাংলাদেশকে নিজেদের ভূখন্ড ব্যবহার করতে দিতে হবে ভারতীয় বাসকে।

ভারত-বাংলাদেশের এই বাস-কূটনীতি অবশ্য শুধু এই একটা রুটেই থেমে থাকছে না। ২২ মে ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি রুটে আর একটি বাস সার্ভিসের ট্রায়াল রান উদ্বোধন হবে। পরীক্ষা সফল হলে জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই পথে বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুই দেশের সরকার আরও অন্তত চারটি রুটে আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস চালু করার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে। এই নতুন রুটগুলো হল- কলকাতা-চট্টগ্রাম, শিলং-চট্টগ্রাম, খুলনা-কলকাতা ও যশোর-কলকাতা। এগুলোর ব্যাপারে কাজকর্ম এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তারপরেও খুব দ্রুত এই রুটগুলোতেও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে বাস সার্ভিস চালুর সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

এদিকে বাস সার্ভিস চালুর পাশাপাশি ট্রাকে যাতে অবাধে ভারত ও বাংলাদেশে মালামাল পরিবহন করা যায় সে বিষয়ে অনেক দূর এগিয়েছে দুই দেশ। দুই প্রতিবেশী ভুটান ও নেপালকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ভারত ও বাংলাদেশ তাদের দুই প্রতিবেশী নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে মিলে একটি বিবিআইএন (বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল) মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট সই করতে যাচ্ছে। যা স্বাক্ষরিত হলে এই দেশগুলোর ট্রাক অবাধে মাল নিয়ে অন্য দেশগুলোর যে কোন স্থানে যেতে পারবে। বাংলাদেশের নম্বর প্লেটের লরি মাল নিয়ে ভারতের কাঁকড়ভিটা হয়ে সোজা নেপালে ঢুকে পড়তে পারবে। কোনও সীমান্তেই আর মাল ওঠা-নামা করা বা ট্রান্সশিপমেন্টের কোনও ঝামেলা থাকবে না। কাঠমান্ডুতে গত বছরের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনেও অনুরূপ একটি চুক্তি সই করার প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত। কিন্তু পাকিস্তানের বাধায় তখন তা হতে পারেনি।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম/

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *