মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ভূমি কর বাকি, নিলামে উঠছে বনশ্রী-আফতাবনগরের ২৩১ বিঘা জমি

রাজধানীর মেরুল ও রামপুরায় আফতাবনগর-বনশ্রী আবাসন প্রকল্পের প্রায় ২৩১ বিঘা সম্পত্তি অচিরেই নিলামে তোলা হচ্ছে। ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়ের জন্যই এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এ জন্য তেজগাঁও এসি ল্যান্ড অফিসে চারটি সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসনের এই নিলামের সিদ্ধান্তে হাজার হাজার প্লট-ফ্ল্যাট মালিক বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, মামলায় হেরে গেলে বসতবাড়ি হারাতে হতে পারে। গত ২১ বছরে মাত্র ৪০ লাখ টাকা খাজনা বকেয়া থাকায় এত বড় ঝামেলা মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাঁদের।

ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, ওই জমি নিলামে তোলা কিংবা খাস ঘোষণা করা হলে আফতাবনগর-বনশ্রীর মালিক পক্ষ কোনো ক্ষতির শিকার হবে না। কারণ অনেক আগেই জমিগুলো বিভিন্ন মানুষের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে গেছে। তবে রেকর্ডপত্রে এসব জমির মালিক রয়ে গেছে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড। সরকারি খাসজমির সঙ্গে কম্পানিটির বেশ কিছু জমি বিনিময় করা হয়েছে। এটা জমির মালিকানায় নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। এ কারণে এই প্রকল্পে প্লট কিংবা ফ্ল্যাট কিনে নামজারি করা যাচ্ছে না। ওদিকে মাথার ওপর চেপে বসেছে জমি নিলাম বা খাসের খৰ।

aftabnagarতেজগাঁও এসি ল্যান্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৩১ বিঘা জমির ওপর শত শত প্লট বানিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করলেও ওই দুটি আবাসন প্রকল্প জমির খাজনা দিচ্ছে না। ২১ বছর ধরে তাগাদা দিয়েও তাদের কাছ থেকে এক পয়সা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এ মাসের ১০ তারিখ সরকারের পক্ষে তেজগাঁওয়ের এসি ল্যান্ড নাজমা নাহার বাদী হয়ে পিডিআর অ্যাক্টে (সরকারি পাওনা আদায় আইন ১৯১৩) মামলাগুলো দায়ের করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, উত্তর মেরাদিয়া মৌজায় ৩০ দশমিক ৬০ একর, মেরাদিয়া মৌজায় ১২ দশমিক ৫০ একর, বাড্ডা মৌজায় ১৫ দশমিক ২৫ একর এবং উলন মৌজায় ১৮ দশমিক ৭৫ একর জমির খাজনা বিগত ২১ বছর ধরে পরিশোধ করা হচ্ছে না। ১৪০১ বঙ্গাব্দের পর এসব জমির এক পয়সাও খাজনা দেওয়া হয়নি। ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনে বলা আছে, পর পর তিন বছর জমির খাজনা না দেওয়া হলে পিডিআর অ্যাক্টে সার্টিফিকেট মামলা করে বকেয়া খাজনা আদায় করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে সম্পূর্ণ দায় বর্তাবে সংশ্লিষ্ট তহশিল অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর। অথচ আফতাবনগর-বনশ্রী প্রকল্পের নামে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে ২১ বছর পর।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে। তাদের মালিকানায় দুটি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম জীবিত থাকা অবস্থায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রাচীনতম এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে আবাসন ব্যবসা করে আসছে। এর আগে খাজনা অনাদায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো মামলার কথা শোনা যায়নি।

আফতাবনগর-বনশ্রী প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, ‘ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছে বকেয়া পড়ে থাকা এই খাজনা সামান্য। আমরা নিয়মিতভাবে খাজনা পরিশোধ করে থাকি। কী কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই খাজনাটা পড়ে আছে সেটা অজ্ঞাত। কম্পানির পুরনো কাগজপত্র দেখে মূল ঘটনা জানতে হবে। বকেয়াটা সঠিক হলে অচিরেই তা পরিশোধ করা হবে। কারণ আমাদের প্রতিষ্ঠানের একটা সুনাম আছে।’

বাড্ডা তহশিলের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘খাজনা পরিশোধের জন্য দুটি আবাসন কম্পানিকে অসংখ্য বার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সাদা নোটিশ ও লাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো প্রক্রিয়াই আমলে নেয়নি। এ কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে মামলাগুলো করতে হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সম্পত্তি ক্রোকের নোটিশ করা হবে। তাতেও কাজ না হলে সমুদয় সম্পত্তি নিলামে তুলে সরকারি বকেয়া আদায় করা হবে। সেটা সম্ভব না হলে ওই সম্পত্তি খাস ঘোষণা করে জেলা প্রশাসনের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত করা হবে।’

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *