বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভাসমান অভিবাসীদের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের

Malyভাসমান অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের জন্য নিজেদের জলসীমা নিষিদ্ধ করলেও পরে মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে মালয়েশিয়া। শুধু তা-ই নয় এবার সেখানকার রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতি তাদের চাকরি দেয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে। মালয়েশীয় দৈনিক দ্য স্টারে এমন খবর প্রকাশ করা হয়েছে। দ্য মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান মুসলিম রেস্টুরেন্ট ওনার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমিতির সভাপতি নুরুল হাসান সাউল হামিদ বলেছেন, তাদের এ প্রস্তাব মালয়েশিয়া সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। যেখানে সরকার সাগরে ভাসমান অবৈধ অভিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে। নুরুল হাসান বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য সহায়তার হাত আরেকটু প্রসারিত করতে চাই। এরা আমাদেরই ভাই-বোন।’ সমিতির অনেক সদস্য এই বিপদগ্রস্ত মানুষদের নিজ পায়ে দাঁড়ানোর মতো ব্যবস্থা করে দিতেও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

নুরুল হাসান বলেন, ‘আমরা সরকার বা আমাদের সদস্যদের এ ব্যাপারে কোনোভাবেই চাপ দিচ্ছি না। আমরা একেবারেই মানবিক কারণে এ প্রস্তাব দিয়েছি। আর আমাদের সদস্যরাও স্বেচ্ছায় এ ব্যাপারে রাজি হয়েছেন। আমাদের বুঝতে হবে- যদি তাদের আমাদের উপকূলে অবতরণ করার অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তাদের ও পরিবারের রুজির বিষয়টা থেকেই যাচ্ছে। যদি তারা কাজ পায় তাহলে তাদের নানা সামাজিক সমস্যা এবং অপরাধের সঙ্গে তাদের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেকখানি কমবে।’ এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ওঙগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সংলগ্ন মিয়ানমার জলসীমায় অবৈধ অভিবাসী নিয়ে কয়েকটি নৌযান এখনও অপেক্ষমান রয়েছে। এই অভিবাসীদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এদিকে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় পাওয়া বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ওঙগ যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঐ সংস্থার বাংলাদেশ মুখপাত্র আসিফ মুনীর।

থাইল্যান্ডের মানব পাচার সিন্ডিকেটের শিকার প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী বিগত ১০ দিন ধরে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডের উপকূলে নৌকাতে ভাসমান অবস্থায় জীবন কাটায়। নৌকায় থাকা এসব ভাসমান অধিবাসীদের উদ্ধারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া সরকার এক অভিযান নামানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী ড. ওয়ান জুনাইদি তুয়াঙ্কু জাফর শরণার্থী বিষয়ক কাগজপত্র চূড়ান্ত করার পরই তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে। মালয়েশিয়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় আসা অবৈধ বাংলাদেশিদের সঙ্গে আরও  রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। তাদেরকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ইউএনএইচসিআরের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আর অবৈধ বাংলাদেশিদের কাগজপত্র সম্পন্ন হওয়া মাত্রই তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম/

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *