দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সংলাপে অংশ নিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিংয়ের মধ্যে সাক্ষত হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা থেকে দিল্লিতে বিমানবন্দরে নামার পরই শাহরিয়ার আলম সরাসরি যান সাউথ ব্লকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখানেই তাদের মধ্যে হওয়া এ সাক্ষাতকালীন বৈঠকে দু’দেশের মধ্যকার বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ষষ্ঠ পর্যায়ের মৈত্রী বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ বৈঠকের আয়োজক ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোই এই মৈত্রী আলোচনার উদ্দেশ্য। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের পরিপ্রেক্ষিতে এবারের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ওবেরয় হোটেলে সংলাপ উদ্বোধন করেন ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী নাজমা হেপতুল্লাহ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। শনিবার সংলাপের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়া হ্যাবিট্যাট সেন্টারে।
মূলত তিনটি বিষয় এবারের বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসবে। নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও পানি নিরাপত্তা। নিরাপত্তা বিষয়ের পাশাপাশি চলে আসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। অংশ নেবেন রাজস্থানের যোধপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাবেক পরিচালক এম এল কুমাওয়াত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুর রশিদ, অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. আফসার করিম, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক শ্রীরাধা দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের সহসভাপতি সত্যম রায়চৌধুরি। যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য পানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আলোচনার তৃতীয় বিষয়।
সমাপ্তি অধিবেশনে বিশেষ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ভারত সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের ঢাকা চ্যাপ্টারের সচিব এএসএম শামসুল আরেফিন।
এর আগে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী আলোচনার প্রথম অধিবেশন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ঢাকায়। তৃতীয় বৈঠক আবারো কলকাতায়, চতুর্থ বৈঠক ত্রিপুরার আগরতলা এবং পঞ্চম বৈঠক দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়।
‘ইন্ডিয়া বাংলাদেশ সম্পর্ক : দ্বিপাক্ষিতা ও তার সম্প্রসারণ’ শীর্ষক আলোচনার শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্বোধনী দিনে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ সহযোগিতা ও যৌথ ব্যবস্থাপনা এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করে দিতে পারে। তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি বন্টনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভূ বলেন, আমরা উভয় দেশে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করে এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের পর বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি বলেন, এই দুই দেশের মধ্যে এখনো অনেক সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুদ্ঘাটিত রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। তিনি বাংলাদেশের মানবিক খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের সকল দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি শিল্প, কৃষি, পরিবেশ এবং জলবায়ুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা এবং যৌথ ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়ে বলেন, তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছে। তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করার আহবান জানান। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি নদী নিয়ে যৌথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যেতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বর্ডার ব্যবস্থাপনা যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ জ্বালানি উপ-আঞ্চলিক উন্নয়ন, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে কাজ করতে পারে। স্থলসীমা চুক্তি অনুমোদনের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের সম্পর্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বলেন, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে আরো নিবিড় করবে এবং তিনি আশা করেন এই সফরের মধ্য দিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের পথ প্রশস্ত হবে।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম/



Leave a Reply