ডাকাতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার সোহাগ পরিবহনের চালক ও সহকারীর মুক্তির দাবিতে অনড় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দক্ষিণাঞ্চলে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
খুলনা বিভাগের ছয় জেলা ও ফরিদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে চলমান অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের চতুর্থ দিন শনিবার দুপুরে যশোর বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে আটক শ্রমিকদের মুক্তি ও ‘দোষী পুলিশ’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সারা বাংলাদেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করা হবে।
সম্মেলনে খুলনা বিভাগীয় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আলী আকবার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।
পরিবহন ধর্মঘটকে শ্রমিকদের ‘যৌক্তিক আন্দোলন’ দাবি করে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতা আলী আকবার বলেন, “এ আন্দোলন থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। রাজশাহী, বরিশাল ও ঢাকাসহ সব বিভাগের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
ফরিদপুরের মধুখালীতে বেনাপোলগামী সোহাগ পরিবহনের একটি নৈশকোচে সোমবার রাতে ডাকাতির পর যাত্রীদের অভিযোগে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসটির চালক ও তার এক সহকারীকে আটক করে। পরে ডাকাতির মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে ডাকাতির পর চালক বাস নিয়ে মধুখালী থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠায় বলে দাবি করেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
এরপর আটক দুই পরিবহন শ্রমিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালীর ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও ফরিদপুর থেকে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ১৮টি রুটে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক আসে।
তবে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান শুক্রবার সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বাসযাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বাস চালক ও তার সহকারীকে আটক করা হলেও তাদের ছাড়িয়ে নিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যাত্রীদের জিম্মি করছেন।
শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ১৯ মে ভোরে ডাকাতি সংঘটিত হওয়া বাসের ২২ জন যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, যাত্রীবেশী সাত ডাকাত আশুলিয়া থেকে বাসে ওঠে। ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা পার হওয়ার পরপরই ওই ডাকাতেরা বিনা বাধায় চালকের কাছ থেকে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতি করে। ডাকাতির পর যাত্রীদের দাবির মুখে বাধ্য হয়ে চালক বাসটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মধুখালী রেলগেট এলাকায় থামালে যাত্রীরাই মধুখালী থানায় ফোন করে ঘটনাটি জানান। পুলিশ সুপার বলেন, ‘মালিক সমিতির নেতারা আমার কাছে বাসচালক ও হেলপারের জামিনের ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু আমার পক্ষে কোনোভাবেই সহযোগিতা করা সম্ভব নয়। জামিন দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।’ তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিকেরা জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে এবং তাঁদের জিম্মি করে ধর্মঘট করে বাস ডাকাতির মামলার আসামিদের জামিনের সুযোগ নিতে চান। কিন্তু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
যানবাহন না চলায় যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বেকায়দায় পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরাও।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম


